kbctgbd
১৯ জানুয়ারি ২০২৫ ২:১২ অপরাহ্ণ
জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন উপজেলাবাসী।গত দুই মাস (নভেম্বর ও ডিসেম্বরে) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩১টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এর মধ্যে বোরো জমির সেচ কাজে ব্যবহৃত ২২টি, ২টি শিল্প ও ৭টি আবাসিক গ্রাহকের ট্রান্সফরমার। এতে বোরো চাষ ব্যাহত হয়ে কৃষি উৎপাদন বিঘ্ন হবে বলে স্থানীয় কৃষকদের দাবি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নাসিরনগরে শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে চুরিও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত শুষ্ক মৌসুমের মতই শীতেও নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে। তাই রাতে যখনই লোডশেডিং শুরু হয় তখনই উপজেলার কোনো না কোনো এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরি হয়। তাদের ধারণা এসবের সঙ্গে স্থানীয় পল্লীবিদ্যুতের প্রশিক্ষিত ইলেকট্রেশিয়ানরা জড়িত থাকতে পারে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নাসিরনগর পল্লীবিদ্যুৎ কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের নিয়োগকৃত কোনো ইলেকট্রেশিয়ান এসবে জড়িত না। চুরি ঠেকাতে বারবার উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় কথা বলছি। পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি বাদী হয়ে মামলাও করেছে। তার পরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এমনকি গত এক বছরে প্রায় ১০০ এর মতো ট্রান্সফরমার চুরি হলেও এসব ঘটনায় কেউই আটক হয়নি।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের দাতমণ্ডল গ্রামের একজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের গ্রামে গত ৭ জানুয়ারি রাতে সেচ প্রকল্পের চারটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তারা বলছে নিজেদের খরচে ট্রান্সফরমার লাগাতে হচ্ছে। এদিকে বোরোর সেচ মৌসুম চলে যাচ্ছে। তাই কৃষকের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
একই গ্রামের কৃষক রহমত আলী বলেন, এক সপ্তাহ ধরে আমাদের সেচ কাজ বন্ধ। জমিতে হালচাষ করে রাখছি কিন্তু পানির কারণে বোরো আবাদ করতে পারছি না। ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় জমি নিয়া বেকায়দায় পড়ছি।
নাসিরনগর পল্লীবিদ্যুৎ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গেল বছরের দুই মাসে ৩১টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এর মধ্যে নাসিরনগর সদর ইউনিয়নে ৯টি, পূর্বভাগ ইউনিয়নের ৩টি, বুড়িশ্বর ইউনিয়নে ৬টি, গোকর্ণ ইউনিয়নে ৮টি, কুন্ডা ইউনিয়নে ২টি ও চাপরতলা ৫টি। এছাড়াও চলতি মাসের প্রথম এক সপ্তাহে ৮টিসহ এ উপজেলায় গত এক বছরে ৯০টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে।
এদিকে বুড়িশ্বর ইউনিয়নে চলতি মাসের ৯ তারিখ পল্লীবিদ্যুতের দু’জন লাইনম্যানকে বেঁধে তিনটি সেচ প্রকল্পের ট্রান্সফরমার নিয়ে যায়। এতে ওই এলাকার কয়েকশ বিঘা জমির আবাদ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ৩টি ট্রান্সফরমার নতুনভাবে সংযোগ দিতে লাগছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। বুড়িশ্বর ইউনিয়নের কৃষক গৌর পাল বলেন, সঠিক সময়ে পানি না পেলে আমরা বোরো আবাদ করতে পারব না। জমিতে ফসল না ফলালে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। একই অভিযোগ ওই এলাকার কৃষক গিয়াস উদ্দিন, মিজান শাহা, আলাউদ্দিন ও আলাল শাহার।
উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, নিয়মিতভাবেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সেচ প্রকল্পের ট্রান্সফরমার চুরি হচ্ছে। এতে করে কৃষক সঠিক সময়ে জমিতে পানি দিতে না পারায় আবাদ ব্যাহত হচ্ছে, যা খুবই দুঃখজনক।
নাসিরনগর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন বলেন, প্রায় ১০০ এর কাছাকাছি ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি যথেষ্ট উদ্বেগের। এসবে স্থানীয় কিছু অসাধুচক্র জড়িত। আমরা নিজেরা বাদী হয়ে মামলা করেছি কিন্তু কেউই আটক হয়নি। তবে এসব রোধে স্থানীয়দেরও পাহারার ব্যবস্থাসহ সতর্ক থাকতে হবে।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খাইরুল আলম বলেন, আমাদের কাছে পল্লীবিদ্যুৎ থেকে শুরু করে কোনো গ্রাহকই ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেননি। যদি কেউ অভিযোগ করেন তাহলে চুরির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল খবরবাংলা২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন info@khaborbangla24.com ঠিকানায়।