বন্যাকবলিত এলাকায় এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চট্টগ্রামে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর ৩টার দিকে নগরের ২ নম্বর গেট এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা “এক দফা, এক দাবি—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ”, “বন্যার মধ্যে পরীক্ষা নয়” এবং “পরীক্ষা স্থগিত করতে হবে”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এতে কিছু সময়ের জন্য এলাকায় যান চলাচলেও প্রভাব পড়ে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলার বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেক পরীক্ষার্থী জলাবদ্ধতা, নৌপথ ও যোগাযোগ সংকটের কারণে সময়মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। অনেকে ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়েছেন, আবার কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাই তারা পরীক্ষা স্থগিত এবং শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক চাপের বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে।
তারা বলেন, এমন অবস্থায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত অমানবিক এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন।
এর আগে মঙ্গলবার একই দাবিতে নগরের ষোলশহরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ করেন। পরে ধাক্কাধাক্কির মধ্যে ফটক খুলে গেলে কয়েকজন শিক্ষার্থী সেটি কাঁধে নিয়ে সড়কের দিকে চলে যান। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
চট্টগ্রামের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানেও বন্যা পরিস্থিতির কারণে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। উত্তরা, সায়েন্সল্যাব, মিরপুর-১০ ও ইসিবি চত্বরে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেন পরীক্ষার্থীরা। পরে সায়েন্সল্যাব থেকে আন্দোলনকারীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সচিবালয়ের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু করেন।
এদিকে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জরুরি বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে তলব করেন। পরে সংসদে বক্তব্য দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া নিজের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতির কারণে কোনো পরীক্ষা ব্যাহত হলে বা প্রয়োজন দেখা দিলে তা পুনরায় আয়োজনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে।
তবে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকার পরীক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ও কার্যকর সমাধানের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
আরু/


