back to top

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১লা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতকানিয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ফুলকপি চাষ,ফুলকপি চাষে লাভবানের আশায় সাতকানিয়ার কৃষকেরা। 

kbctgbd
২ জানুয়ারি ২০২৫ ৫:১২ অপরাহ্ণ
মিজানুর রহমান রুবেল (চট্টগ্রাম) সাতকানিয়া প্রতিনিধিঃ

 

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ফুলকপি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা, সাতকানিয়া উপজেলা একটি কৃষি সমৃদ্ধ এলাকা। এই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৩ হাজার ১৮০ হেক্টর আবাদি জমিতে ধান, পাট, গমসহ নানাবিধ শাক-সবজি চাষাবাদ করেন কৃষকেরা।

বর্তমানে শীতকালীন সবজি চাষ করছেন স্থানীয় চাষিরা। এরমধ্যে কপিকল সহ ১০টি জাতের ফুলকপি চাষাবাদ করে, এসব ফুলকপি বেশি দামে বিক্রয় করতে পারবে এমনটাই আশা করেন কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, সাতকানিয়া উপজেলায় ১৭ ইউনিয়নের মোট ১৩ হাজার ১৮০ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে চলতি মৌসুমে ১২০ হেক্টর জমিতে হয়েছে ফুলকপির চাষ। প্রতিটি ফুলকপি গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।

এতে ৩১ শতাংশ জমিতে দুই হাজার ৫২৮ কেজি বা হেক্টর প্রতি ৩১ টন এর মত ফলন উৎপাদন হতে পারে। এছাড়া ১২০ হেক্টর জমিতে আনুমানিক ৩৬৮৯ টন ফুলকপি উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।গত বছরের প্রথম দিকে কৃষকেরা স্থানীয় পর্যায়ে ১২০ টাকা কেজি দরে আগাম ফুলকপি বিক্রয় করেছেন।

সরেজমিনে সাতকানিয়া উপজেলার চরতী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে সাঙ্গু নদীর পাড় গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, বিঘার পর বিঘা জমিতে ফুলকপির চাষ করছেন কৃষকেরা। সবুজ পাতার মধ্যে ফুটে আছে সাদা ধবধবে কপিকল জাতের ফুলকপি।

বদি আলম নামে একজন কৃষক বলেন, আমাদের এখানে ১৮ শতাংশে এক পাকি জমি। আমি সাত পাকি জমিতে প্রথম চালানে ফুলকপি চাষ করি। রোপণের ৬০ দিন পরে ফুলকপি বাজারে তুলতে পারবো এমনটাই প্রত্যাশা।

আরেক চাষি বলেন, আমি পাঁচ পাকি জমিতে ফুলকপি চাষ করেছি। জমি প্রস্তুত, বীজ রোপণ, সেচ, আগাছা নিধন, জৈব সার প্রয়োগ, ফসল উঠানো ও বিক্রি করতে নেওয়াসহ সব মিলিয়ে ৫০ হাজার টাকার মত খরচ হয়েছে। গত বছর ও আমি অন্যান্য শীতকালীন সবজি থেকে ফুলকপি চাষাবাদ করে অনেক লাভবান হয়েছি।

ফুলকপি চাষি মো. লোকমান বলেন, আমি গতবছর দুই পাকি জমিতে কপিকল জাতের ফুলকপি চাষ করে ভালো লাভবান হয়েছি। এই এলাকার চাষিরা ফুলকপির চাষে লাভবান হয়েছিল। দিন দিন আমাদের এলাকায় ফুলকপির চাষ বাড়ছে।

সাতকানিয়া উপজেলার কৃষি অফিসার মনিরুজ্জামান বলেন, এই এলাকার মধ্যে নামি জাতের ফুলকপির মান ও স্বাদ ভালো হওয়ায় স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে আশেপাশের জেলা সহ ব্যাপারীদের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাতেও বিক্রি হতে পারে । ভালো দাম পাওয়া যেতেও পারে।

আমরা নিয়মিত ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষিদের নানাবিধ প্রশিক্ষণ ও সুপরামর্শ দিয়ে আসছি। অন্যান্য সময়ের চেয়ে চাষাবাদে ভালো ফলন ও দাম পেয়ে কৃষকেরা অধিক লাভবান। ভবিষ্যতে বিভিন্ন জাতের শীতকালীন সবজি ও ফুলকপি চাষাবাদ বাড়বে।

সাতকানিয়া উপজেলা একটি কৃষি সমৃদ্ধ উপজেলা। এই উপজেলায় নিরাপদ ও বিষমুক্ত ফসল, শাক সবজি চাষাবাদে কৃষকদের সব সময় পরামর্শ, দিক নির্দেশনা, বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হচ্ছে। উপ সহকারী কৃষি অফিসারদের মাধ্যমে এসব এলাকায় ফসলের উৎপাদন বাড়াতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সাতকানিয়া উপজেলায় ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে মোট ১৩ হাজার ১৮০ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে চলতি মৌসুমে চরতী ইউনিয়নের ২১ হেক্টর জমিতে হয়েছে ফুলকপি ও বাধাকপির চাষ হচ্ছে। প্রতিটি ফুলকপি গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে । গত বছরের প্রথম দিকে কৃষকেরা স্থানীয় পর্যায়ে ১১০ টাকা কেজি দরে ফুলকপি বিক্রয় করেছেন। দিন দিন আগাম সবজি চাষাবাদে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

এছাড়া গতবছরে একই ভাবে পরামর্শ অনুযায়ী কৃষকেরা ফুলকপি চাষে লাভবান হয়েছে। যার মধ্যে চমক জাতের ১৬ শতাংশ জমিতে হেক্টর প্রতি ফলন ৩৩ মোট ফলন ৫২৮। হোয়াইট কুইন জমির পরিমান ৪ শতাংশ ফলন হেক্টর প্রতি ৩২ মোট ফলন ১২৮। স্নো হোয়াইট ১০ শতাংশ জমিতে ফলন হেক্টর প্রতি ২৯ মোট ফলন ২৯০। স্নো বস ২০ শতাংশ জমিতে ফলন হেক্টর প্রতি ২৮ মোট ফলন ৫৬০। আলি হোয়াইট ১৫ শতাংশ জমিতে ফলন হেক্টর প্রতি ৩০ মোট ফলন ৪৫০। সুদশন ১০ শতাংশ জমিতে ফলন হেক্টর প্রতি ৩২ মোট ফলন ৩২০। হোয়াইট এক্সপাট ২০ শতাংশ জমিতে ফলন হেক্টর প্রতি ৩১ মোট ফলন ৬২০। অন্যান্য ১৮০ শতাংশ জমিতে ফলন হেক্টর প্রতি ৩২ মোট ফলন ৫৭৬। সবর্মোট ফলন ৩৬৮৯।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল খবরবাংলা২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন info@khaborbangla24.com ঠিকানায়।

হামে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১,১৭১

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের...

বিশ্ববাজারে তেলের দামে নতুন ঊর্ধ্বগতি

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা...

ডিএমপির সাঁড়াশি অভিযান, মাদকসহ গ্রেপ্তার ৪৮৭

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ ও নিয়মিত...

ভাইরাল ছবির দুই মুখ এবার বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রতিপক্ষ

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচগুলোর একটি হতে যাচ্ছে ২০২৬...

শিক্ষার্থী আন্দোলনে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ চেষ্টা

শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সরকারবিরোধী কিছু মহল পরিস্থিতি...

হামে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১,১৭১

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের...

বিশ্ববাজারে তেলের দামে নতুন ঊর্ধ্বগতি

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা...

ডিএমপির সাঁড়াশি অভিযান, মাদকসহ গ্রেপ্তার ৪৮৭

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ ও নিয়মিত...

ভাইরাল ছবির দুই মুখ এবার বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রতিপক্ষ

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচগুলোর একটি হতে যাচ্ছে ২০২৬...

শিক্ষার্থী আন্দোলনে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ চেষ্টা

শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সরকারবিরোধী কিছু মহল পরিস্থিতি...

সর্বশেষ

হামে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১,১৭১

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের...

বিশ্ববাজারে তেলের দামে নতুন ঊর্ধ্বগতি

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা...

ডিএমপির সাঁড়াশি অভিযান, মাদকসহ গ্রেপ্তার ৪৮৭

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ ও নিয়মিত...

ভাইরাল ছবির দুই মুখ এবার বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রতিপক্ষ

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচগুলোর একটি হতে যাচ্ছে ২০২৬...