kbctgbd
৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
বাংলার সবচেয়ে জনপ্রিয় গানের তালিকা করলে ‘এই পদ্মা এই মেঘনা এই যমুনা সুরমা নদীতটে’ গানটি থাকবেই।তার এই গানের কিছু পংঙ্খী আমাদের কৈশোরের কবিতাচর্চায় উপমা ও রুপকের ব্যবহার শিখিয়েছিল। তিনি লিখেছেন :
“এ আমার দেশ, এ আমার প্রেম
কত আনন্দ বেদনায় মিলন বিরহ সংকটে…
এই যমুনা সুরমা নদীতটে…”
কিংবা
“এই হাজার নদীর অববাহিকায়
এখানে রমণীগুলো নদীর মতোন
নদীও নারীর মতো কথা কয়…”
একসময়ের প্রগতিশীল হিসেবে পরিচিত গীতিকার আবু জাফর ছিলেন বাংলাদেশ বেতার ও টিভির নিয়মিত গীতিকার। তার স্ত্রী ছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী ফরিদা পারভীন। এই জুটির গীতি ও কণ্ঠ মিলে সাড়া জাগিয়েছিল সংগীতাঙ্গনে। ‘তোমরা ভুলে গেছ মল্লিকাদের নাম’ তার কালজয়ী গানগুলোর অন্যতম। ‘এই পদ্মা এই মেঘনা’ গানটি তো বাংলাগীতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিশের অন্যতম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল বিবিসি জরিপে।
একাত্তর পরবর্তী সত্তর ও আশির দশক ছিল এক অদ্ভুত সময়। এ সময় বাম ও প্রগতিশীল পাড়া থেকে হীরকখণ্ডগুলো আলোর ভুবনে এসে ভিড় জমাতে শুরু করে। অথচ তখন চলছিল ইসলামপন্থিদের ওপর এক চরম দুঃসময়। এ সময়ে আল মাহমুদ অন্ধকার থেকে আলোর ভুবনের বাসিন্দা হন। আবু জাফরও এ সময়েই চিনে নেন নতুন পথের দিগন্ত। এমনকি এর জন্য তিনি তার প্রবাদপ্রতীম জনপ্রিয় স্ত্রী শিল্পী ফরিদা পারভীনের সাথে বিচ্ছেদ করতেও বাধ্য হন। এ ছিল যেন এক হিজরত। এত দিনের খ্যাতিকে নির্দ্বিধায় পেছনে ফেলে আসেন তিনি। আগের সবকিছু ঝেঁড়ে ফেলে নতুন এক রিক্ত জীবন শুরু করেন আবু জাফর।
ইসলামে এসে তিনি একজন খাঁটি নবীপ্রেমিক হিসেবে গড়ে উঠেন। নবিজীবন নিয়ে তিনি লিখেন ‘মহানবীর মহাজীবন’। লিখেন ‘ইসলামের শত্রুমিত্র’ নামে বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধগ্রন্থ।
১৯৪৩ সালের ১৫ মে আবু জাফরের জন্ম। কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের গড়েরবাড়ী কাঞ্চনপুর গ্রামে তার আবাস। আজ ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে তিনি দুনিয়ার সফর শেষ করলেন। আবাস গড়লেন দুনিয়ার ওপারে।
পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন বাংলার অধ্যাপক। চুয়াডাঙ্গা কলেজে ও কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। রাজশাহী ও ঢাকা বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে গীতিকার ছিলেন। আল্লামা সাঈদীর উপস্থিতিতে তার একটি বক্তব্য এখনও কানে বাঁজে আর অনুপ্রাণিত করে। হায়! সে বক্তব্যটি যদি আবার খুঁজে পেতাম!
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল খবরবাংলা২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন info@khaborbangla24.com ঠিকানায়।