অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে দুর্দান্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করে দিয়েছে টাইগাররা। ২০০৩ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্টেই পেসারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের দিকে টেনে নিয়েছে সফরকারীরা।
বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন হাসান মাহমুদ। ১৭ ওভারে মাত্র ৫৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছেন এই ডানহাতি পেসার। এটি টেস্টে তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। এর আগে এক ইনিংসে তার সেরা বোলিং ছিল ৫ উইকেট।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন স্টিভেন স্মিথ। তবে হাসান মাহমুদের বলে তার বিদায়ের পর দ্রুতই অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস গুটিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানেই থামে স্বাগতিকদের ইনিংস।
হাসানের সঙ্গে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন। দুজনই দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। ফলে অস্ট্রেলিয়ার ১০ উইকেটই নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা।
এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে প্রথমবার বাংলাদেশের পেসাররা কোনো টেস্ট ইনিংসে প্রতিপক্ষের সব ১০ উইকেট নিয়েছিলেন। সেবার হাসান মাহমুদ ৫টি, নাহিদ রানা ৪টি এবং তাসকিন আহমেদ একটি উইকেট নেন।
ম্যাচ শুরুর পর থেকেই বাংলাদেশের বোলিং নিয়ে প্রশংসা করছিলেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার।
কায়ো স্পোর্টসে ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে ২২০-২৩০ রানের মধ্যে আটকে রাখতে পারলে তাদের জয়ের ভালো সুযোগ থাকবে। শেষ পর্যন্ত ওয়ার্নারের অনুমানের চেয়েও কম রানে অস্ট্রেলিয়াকে থামিয়েছে বাংলাদেশ।
শুধু ওয়ার্নার নন, সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার কেরি ও’কিফও বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন। তার মতে, অনেকেই ম্যাচটি খুব বেশি দূর গড়াবে না মনে করলেও বাংলাদেশ প্রথম দিনেই স্পষ্ট করে দিয়েছে তারা অস্ট্রেলিয়ায় লড়াই করতে এসেছে।
অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ দিনের শেষ দিকে ব্যাটিংয়ে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৪ রান তুলেছে। শাদমান ইসলাম ১৩ ও তানজিদ হাসান ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। ফলে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ঘাটতি এখন ১৭৪ রান।
এখন বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ব্যাট হাতে এই সুযোগ কাজে লাগানো। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী পেস আক্রমণের বিপক্ষে শান্ত-মুশফিকদের ব্যাটিং সফল হলে ডারউইন টেস্টে ইতিহাস গড়ার সুযোগ আরও বড় হয়ে উঠতে পারে।
আরু|খব



