রমিজ তার ফুফীকে বুঝিয়ে ব্ল্ল, আমি তো ছোট একটা চাকরি করি যা বেতন পায় তা দিয়ে কোন রকমে সংসার চালায়, তাছাড়া আমার সাধ্যমতো আমি দেবো, পারভিন ফুফীকে চা দাও, পারভিন বল্ল দোকান থেকে চিনি নিয়ে এসো। ফুফী বল্ল, চা খাবো না আগে বল্ল বিয়েতে কত টাকা দিবে, বেচারা রমিজ উপায় না দেখে বল্ল ফুফী আমি দুই হাজার টাকা দেবো। এই কথা শোনার সাথে সাথে ফুফী রাগে উঠে বল্ল, পরের ছেলে নোয়াব আলী যদি দশ হাজার টাকা দিতে পারে, তুমি আমার আত্নীয় হয়ে কিভাবে দুই হাজার টাকা মুখে আনলে,ছিঃ ছিঃ আমার তো লজ্জা লাগলো,তুমি যেখানে চাকরি কর নোয়াব আলী ও সেখানে চাকরি করে আর নোয়াব আলী মানুষকে দান করে তুমি ব্যাংকে জমা কর।
শোন রমিজ আমার বাপ দাদার ভিটায় তুমি ঘুমাচ্ছো এইখানে আমি দুই গন্ডা জায়গায় পাই, আমার এই জায়গায় নোয়াব আলীর কাছে বিঞি করবো বলে চলে গেলো রমিজ ফুফী, ফুফী বলে অনেক চেষ্টা করলো থামাতে কিন্তু সেই সোজা নোয়াবের বাড়িতে চলে গেলো। বৌয়ের চিৎকার শুরু হলো ওরে আমার সততার পথিকরে তোমার জন্য আমার সন্তাদের কপালে দুঃখ আছে, এবার ও কি বুঝবে না টাকা থাকলে আত্নীয়রা সন্মান করবে আর টাকা না থাকলে আত্নীয়রা তোমার মুখের দিকে ও থাকাবে না,তোমার সততা আমার দরকার নেই আমার টাকা দরকার। রমিজ মাথাটা নিচু করে দোকানের দিকে ছুটল।
তিনদিন পর শুঞবার রমিজের ফুফী নোয়াব আলী,চেয়ারম্যান, মেম্বার, গ্রামের সদার্র মান্যগণ্য ব্যক্তিবর্গ, জা্য়গায় জমির দলিল নিয়ে হাজির হয়। রমিজ কে তারা ডাকলো , রমিজ সবাইকে সালাম দিলো, নোয়াব আলী বল্ল,রমিজ এখানে কি ফুফী দুই গন্ডা জায়গা পাবে,রমিজ হ্যাঁ পাবে। এই দু- গন্ডা আমার কাছে বিঞি করেছে। ফুফী বল্ল আজ থেকে এই জায়গার মালিক নোয়াব আলী।
জায়গায়টা মাপ দিয়ে সীমানা নিধারন করে সবাই চলে গেলো,ফুফী আর ফুফাতো ভাইকে ডেকে রমিজ বল্ল, ওমর কে উদ্দেশ্য করে বল্ল, ওমর আজ ডিগ্রি পাস করেছো ছোটবেলায় আমার ফুফা মারা যাওয়ার পর থেকে তোমরা সবাইকে আমার বাবা আমাদের বাড়িতে নিয়ে এসেছে সবার পড়া লেখা থেকে শুরু করে যাবতীয় খরচ আমরা চলাতাম মনে আছে সেইদিনের কথা? ওমর বল্ল,ভাই অতীতের কথা বাদ দেন ভাই সবাই বিয়েতে আসবেন বলে চলে গেলো তারা।
এবার রমিজ ভেঙে পড়লো মনে পড়ছে সেই অতীতের কথা রমিজ আর রমিজের বাবা কত কষ্ট করে ফুফীর সংসার চলাতো পড়ালেখার পাশাপাশি বাবার সাথে হাল-চাষ করতো কখনো ফুফাতো ভাই বোনদের কষ্ট দিতো না, রমিজের মায়ের হাড় ভাঙা কষ্টের মাঝে ও তার ফুফী সহযোগীতা করতো না, এতো কষ্ট করে যাদেরকে দুঃসময়ে সহযোগিতা করেছে তারা আজ টাকার জন্য এটা কি করল।
Atik Rahman



