অংগ্য মারমা,মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:
খানাখন্দে ভরা খাগড়াছড়ি মানিকছড়ি উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মং সার্কেল চীফ মংপ্রু সেইন বাড়ির সড়কে, বাড়ছে জনদুর্ভোগ। মানিকছড়ি বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ হয়ে পুরনো গরু বাজার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বাড়ির সড়কে সঙ্গে মহামুনি বাসস্ট্যান্ড দেড় কিলোমিটার একমাত্র সংযোগ সড়কটি খানাখন্দে বেহাল হয়ে পড়েছে।
এ সড়কে পাশ্বেই বীর মুক্তিযোদ্ধা মং সার্কেল চীফ মংপ্রু সেইন রাজবাড়ি। তিনি তো বেছে নেই। তবে তার আত্বীয় স্বজনরা বসবাস করছে রাজবাড়ীতে। বীর মুক্তিযোদ্ধা মং সার্কেল চীফ মংপ্রু সেইন বাংলাদেশ স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি একজন মারমা সম্প্রদায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এবং মং সার্কেল চীফ হওয়ার সত্ত্বেও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের অভূদয়ে তার আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমী চেতনা তাকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে। মুক্তিযোদ্ধ সময়ের মংপ্রু সেইন তার নিজের তেত্রিশটি আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র যোদ্ধাদের হাতের তুলে দেন। নিজের ব্যবহার প্রাইভেট কারও কয়েকটি জীপ গাড়িও মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর করেন। তিনি যুবকদের মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে ফুটবল কিনে দিয়েছেন বলে জানা যায়। তিনি বলতেন খেলো খাও আর ইয়ুত ক্যাম্পে গিয়ে নাম লেখাও। মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহণ কর এবং দেশ স্বাধীন কর। অথচ এ বীর মুক্তিযোদ্ধা বাড়ির পাশ্বেই সড়কের খানাখন্দভরা এবং অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত যেন অনেকটা মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে । সড়কটিও ১নং মানিকছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদ নাকের ডগায়। সড়কের ইটগুলো ভেঙে বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। এ গর্তগুলো দেখেও দেখা কেউ নেই বললে চলে।
সড়কের গর্ত কারণে হাট বাজারে দিন হাজারো ক্রেতা ও বিক্রেতার যাতায়াতে অসুবিধা হচ্ছে । মানিকছড়ি বাজারে সঙ্গে মহামুনি বাসস্ট্যান্ডে যাতায়াতের কম দূরত্ব একমাত্র সড়ক এটি। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ২০০থেকে ৩০০ উৎপাদিত ফসল ও চাষের সবজি নিয়ে তিনট্যহরী বাজারে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করে। বর্তমানে সড়কের অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত যেন অনেকটা মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। বেশির ভাগ অংশ যাতায়াতে অনুপযোগী। মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, সিএনজি, বাজারে মালামাল পরিবহন গাড়ি চলাচল করার মতোও পরিস্থিতি নেই এখন। এতে ভোগান্তি পোহাচ্ছে উপজেলা লক্ষাধিক মানুষ ।
সড়কের বেহাল নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়িক আনু মারমা বলেন, এত দিনেও কেন কোন দপ্তর সড়কের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করছেন না, মেরামতের কাজ করলে সড়কের এমন হাল হওয়ার কথা নয়। মহামুনিতে বাসষ্ট্যান্ড পাশ্বেই বেসরকারি লক্ষী মেমোরিয়াল হাসপাতাল রোগী নিয়ে বিকল্প এই সড়ক হিসেবে যাতায়াত করা কোনোভাবে সম্ভব নয়।
ইজিবাইক যাত্রী মো. কামাল হোসেন বলেন, মানিকছড়ি বাজার থেকে আমতল হয়ে মহামুনি বাসষ্টেশন যাতায়াতে ২০ বিশ টাকা ভাড়া লাগে । অথচ বাজার থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা বাড়ির পাশে সড়ক ও পুরনো গরু বাজার হয়ে মহামুনি বাসস্ট্যান্ড একমাত্র সংযোগ সড়কটি দিয়ে যেতে রিক্সা ও ইজিবাইক ভাড়া জনপ্রতি ১০টাকা। যাত্রীদের বাড়তি ১০ ভাড়া গুনতে হয়। মানিকছড়ি ব্যবসায়িকরা চট্টগ্রাম থেকে আনা মালামাল পরিবহন জন্য অতিরিক্ত ২০০- ৫০০টাকা দিতে হয় বলে জানান ব্যবসায়িরা।
এ সড়কে বেহাল বিষয়ে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয় উপজেলা প্রকৌশলী (অ: দা:) মো: মহব্বত আলী বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মংপ্রু সেইন বাড়ির সড়ক ও পুরানো গরু বাজার সঙ্গে মহামুনি বাসস্ট্যান্ড একমাত্র সংযোগ সড়কটি খানাখন্দে বেহাল অবস্থা অবগত আছেন। তিনি লিখিত আবেদন ঢাকায় এলজিইডি অধিদপ্তরে প্রেরণ করেছেন । কিন্তু এ রাস্তা আইডি নাম্বার (ম্যাপ) না থাকায় আবেদন অনুমোদন হয় নি বলে জানান।
মানিকছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শফিকুর ইসলাম সাথে এ বিষয়ে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি মনগড়া কথা বলেছেন। তিনি বললেন আগামী ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে এলজিইডি অর্থায়নে পিস ঢালাই কাজ করবেন। উপজেলা (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা কথা সাথে মানিকছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুর ইসলাম কথা মিল পাওয়া যায়নি।
রাজপাড়া নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক অনেকে স্থানীয় ঠিকাদাদের প্রতি অভিযোগ করে বলেন, ঠিকাদারা নাকি মানিকছড়ি কেন্দ্রীয় মসজিদ হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা বাড়ির পাশে সড়ক ও পুরনো গরু বাজার হয়ে মহামুনি বাসস্ট্যান্ড একমাত্র সংযোগ সড়কটি মেরামত কাজ করা আগ্রহী নয়, কারণ সড়কটি কাজ সদরে হওয়া, ঠিকাদারা কাজ করলে পকেটে কম লাভ করতে পারবে।



