মা হওয়ার কারণে যেন থেমে না যায় ক্রিকেট ক্যারিয়ার নারী ক্রিকেটারদের জন্য এমনই উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। জাতীয় পর্যায়ের চুক্তিবদ্ধ নারী ক্রিকেটারদের পূর্ণ বেতন ও ভাতাসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়ার নীতিমালা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। এর ফলে সন্তান জন্মের সময় আর্থিক নিরাপত্তার পাশাপাশি ক্রিকেটে ফেরার সুযোগও তৈরি হবে খেলোয়াড়দের জন্য।
সম্প্রতি বিসিবির এক ভার্চুয়াল সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ছুটি চার মাস নাকি ছয় মাস হবে, তা নিয়ে বোর্ড পরিচালকদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
বিসিবির পরিচালক ও নারী ক্রিকেট বিভাগের প্রধান রফিকুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন, এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা দ্রুত প্রণয়ন করা হবে। পরবর্তী বোর্ড সভায় আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য এটি উপস্থাপন করা হবে।
বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে মাতৃত্বের পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফিরে আসার নজির খুব বেশি নেই। অথচ প্রয়োজনীয় সহায়তা ও আর্থিক নিরাপত্তা না থাকায় অনেক ক্রিকেটারের জন্য সন্তান জন্মের পর মাঠে ফেরা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এর সাম্প্রতিক উদাহরণ জাতীয় দলের পেসার সুরাইয়া আজমিন। মাতৃত্বকালীন সময়ে বোর্ডের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। গত মে মাসে ছুটির আবেদন করেও দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া পাননি বলে জানান এই ক্রিকেটার। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক ব্যাটার সানজিদা ইসলাম। গত বছর প্রথম সন্তান জন্মের পর ক্রিকেট থেকে বিরতি নেন তিনি। কিন্তু পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় আর খেলায় ফিরতে পারেননি। মাতৃত্বকালীন সময়ে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান আম্পায়ার সাথিরা জাকির জেসিও।
এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই এবার নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি। এরই মধ্যে সুরাইয়া আজমিনের আবেদনও গ্রহণ করেছে বোর্ড।
রফিকুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন, ২৭ বছর বয়সী এই পেসারের জন্য চার মাসের পারিশ্রমিক পরিশোধ করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালার আওতায় চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটাররা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকলেও বোর্ডের বেতন কাঠামো অনুযায়ী নিয়মিত বেতন ও ভাতা পাবেন। বিসিবির লক্ষ্য, মাতৃত্ব যেন কোনো নারী ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার কারণ না হয়।
এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উদাহরণও রয়েছে। ২০২২ সালের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অধিনায়ক বিসমাহ মারুফ ছয় মাস বয়সী কন্যা ফাতিমাকে সঙ্গে নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন। সন্তান জন্মের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে ফিরে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। তার এই প্রত্যাবর্তন নারী ক্রিকেটে মাতৃত্ব ও পেশাদার ক্যারিয়ার একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
বিসিবির নারী ক্রিকেট বিভাগের প্রধানের ভাষ্য, মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে সন্তানকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি ক্রিকেটে ফেরার জন্যও খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মাতৃত্বকে গর্বের বিষয় উল্লেখ করে এ সময়ে নারী ক্রিকেটারদের পাশে থাকার প্রত্যয় জানিয়েছেন তিনি।
শুধু মাতৃত্বকালীন ছুটিই নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নির্দেশিকা অনুসারে নারী ক্রিকেটারদের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বিসিবির।
সব মিলিয়ে নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে তৈরি হতে পারে নতুন দৃষ্টান্ত। মাতৃত্বের কারণে যেন আর কোনো প্রতিভাবান ক্রিকেটারকে প্রিয় খেলা থেকে সরে দাঁড়াতে না হয়, সেই পথ তৈরির প্রত্যাশা এখন ক্রিকেটসংশ্লিষ্টদের।
আরু|



