back to top

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২২শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশকে আর তাঁবেদার রাষ্ট্র হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ নভেম্বর ২০২৬ ২:২৫ অপরাহ্ণ

ভবিষ্যতে কেউ যেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার হরণ করে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেই অঙ্গীকার করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। আর জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে হলে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের চেতনা ধারণ করতে হবে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনা প্রমাণ করেছে, জাতীয় স্বার্থ ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বাংলাদেশের মানুষ কখনো আপস করেনি। সবকিছুর ঊর্ধ্বে তাদের কাছে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর দিবাগত রাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দি করা হয়। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্রের সেই পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তা প্রতিহত করেছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে, জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে এবং সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।

তবে পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে তারা আবারও সংগঠিত হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়। পাশাপাশি জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করা হয়েছিল।

তারেক রহমান বলেন, হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই অপশক্তির পরাজয় ঘটে এবং দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়। এ সময় ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে হতাহত এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুই সময়েই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের দিন। বাংলাদেশ যতবার ৭ নভেম্বরের চেতনা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, ততবারই দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।

জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দল, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সব নাগরিকের গর্বিত পরিচয় একটাই, আমরা বাংলাদেশি। এই পরিচয়ই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করেছিল।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তিনি যেভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, ১৯৭১ সালেও স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে রণাঙ্গনে সম্মুখসমরে লড়াই করেছিলেন।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, একটি জাতির ইতিহাস কেবল অতীতের স্মৃতিচারণ নয়; সঠিক ইতিহাস একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও সম্মিলিত ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। এবারের আয়োজনের বিশেষত্ব হলো, হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী ৭ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন।

নতুন প্রজন্ম ৭ নভেম্বরের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। স্বাধীনতার গৌরব সমুন্নত রেখে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের ওপরও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ আগামী নির্মাণে অঙ্গীকারবদ্ধ।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের ঐতিহাসিক দিনে দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের উচ্চারণ হোক ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কেউ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, তিন বাহিনীর প্রধান, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থী, তরুণ, বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্যসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরু|

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল খবরবাংলা২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন info@khaborbangla24.com ঠিকানায়।

পরীমনির পর এবার মুখ খুললেন প্রভা

পরীমনির ‘ব্যাড টাচ’ বিতর্কে এবার মুখ খুললেন অভিনেত্রী সাদিয়া...

চট্টগ্রামে মধ্যরাতে পুলিশের হানা, গ্রেপ্তার ২০

চট্টগ্রাম নগরে গভীর রাতে নির্জন এলাকায় সন্দেহজনক ঘোরাফেরা! পৃথক...

চট্টগ্রাম বন্দর ভারতের হাতে থাকা উচিত ছিল

বাংলাদেশের ভূখণ্ড নিয়ে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির এক সংসদ সদস্যের...

জলবায়ু ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ

জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব যেন নতুন করে বিপদে ফেলছে...

ঢাকায় এক ছাদের নিচে জাপানের জনপ্রিয় সব গাড়ি

রাজধানী ঢাকায় চলছে জাপানের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ও মডেলের রিকন্ডিশন্ড...

পরীমনির পর এবার মুখ খুললেন প্রভা

পরীমনির ‘ব্যাড টাচ’ বিতর্কে এবার মুখ খুললেন অভিনেত্রী সাদিয়া...

চট্টগ্রামে মধ্যরাতে পুলিশের হানা, গ্রেপ্তার ২০

চট্টগ্রাম নগরে গভীর রাতে নির্জন এলাকায় সন্দেহজনক ঘোরাফেরা! পৃথক...

চট্টগ্রাম বন্দর ভারতের হাতে থাকা উচিত ছিল

বাংলাদেশের ভূখণ্ড নিয়ে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির এক সংসদ সদস্যের...

জলবায়ু ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ

জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব যেন নতুন করে বিপদে ফেলছে...

ঢাকায় এক ছাদের নিচে জাপানের জনপ্রিয় সব গাড়ি

রাজধানী ঢাকায় চলছে জাপানের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ও মডেলের রিকন্ডিশন্ড...

সর্বশেষ

পরীমনির পর এবার মুখ খুললেন প্রভা

পরীমনির ‘ব্যাড টাচ’ বিতর্কে এবার মুখ খুললেন অভিনেত্রী সাদিয়া...

চট্টগ্রামে মধ্যরাতে পুলিশের হানা, গ্রেপ্তার ২০

চট্টগ্রাম নগরে গভীর রাতে নির্জন এলাকায় সন্দেহজনক ঘোরাফেরা! পৃথক...

চট্টগ্রাম বন্দর ভারতের হাতে থাকা উচিত ছিল

বাংলাদেশের ভূখণ্ড নিয়ে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির এক সংসদ সদস্যের...

জলবায়ু ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ

জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব যেন নতুন করে বিপদে ফেলছে...