আন্তর্জাতিক ফুটবলে লিওনেল মেসি অধ্যায়ের ইতি ঘটল। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির কিংবদন্তি ফুটবলার ও অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা জানান, অনেক ভেবেচিন্তেই তিনি জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মেসির ভাষায়, সিদ্ধান্তটি নিতে গিয়ে তার অনেক কষ্ট হয়েছে, তবে এখন তিনি মনে করছেন এটাই সঠিক সময়।
মেসি বলেন, আর্জেন্টিনার জার্সিতে তিনি সবসময় নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। শুধু সাম্প্রতিক সময়ে নয়, ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই জাতীয় দলের জন্য লড়াই করেছেন। দেশের মানুষকে আনন্দ দেওয়া এবং আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত করার জন্যই মাঠে সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন তিনি।
দুই দশকের বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে রেকর্ড ২০৭টি ম্যাচ খেলেছেন এবং করেছেন ১২৫ গোল। জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ ও গোল_দুই ক্ষেত্রেই তিনিই আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ রেকর্ডধারী।
তবে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিল হতাশায় ভরা। ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে অভিষেকের পর একাধিক বড় ফাইনালে হার দেখতে হয়েছে তাকে। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হারের পাশাপাশি ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালেও শিরোপা জিততে পারেননি তিনি।
২০১৬ সালে টানা হতাশার পর একবার জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। পরে আবার ফিরে আসেন। আর সেই ফেরার পরই বদলে যায় গল্প।
২০২১ সালে আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকা জেতান মেসি। এরপর ২০২২ সালে ফাইনালিসিমা জয়ের পর কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেন। ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা।
২০২৬ বিশ্বকাপেও মেসির নেতৃত্বে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। তবে শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় তারা। ওই ম্যাচটিই হয়ে যায় আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ।
অবসরের ঘোষণায় মেসি জানিয়েছেন, জাতীয় দলে এখন নতুন প্রজন্মের অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার উঠে আসছে। তাদের জন্য জায়গা করে দেওয়ার সময় এসেছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
সমর্থকদের উদ্দেশে মেসি গত ২০ বছরে পাওয়া ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। পাশাপাশি পরিবার, কোচ, সতীর্থ ও দলের কর্মকর্তাদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
মেসি আরও জানান, এখন থেকে জাতীয় দলের জার্সি পরে মাঠে না নামলেও আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবে দলের পাশে থাকবেন। ভালো সময়ের পাশাপাশি খারাপ সময়েও দলকে সমর্থন করবেন তিনি।
তার অবসরের বার্তাটি আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে একটি ব্যক্তিগত ঘটনায়। মেসি জানান, বিশ্বকাপ ফাইনালের দুই দিন পর, ২১ জুলাই তিনি অবসরের কথাগুলো লিখেছিলেন। পরে তার বাবাকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর নিজের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি আরও নিশ্চিত হন।
জাতীয় দলের হয়ে মেসির শেষ অধ্যায় তাই শিরোপা দিয়ে শেষ না হলেও, আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে তার জায়গা অনেক আগেই পাকাপোক্ত হয়ে গেছে।
একটি বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা, অসংখ্য রেকর্ড আর ১২৫ গোল_সবকিছু মিলিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির ২০ বছরের পথচলা হয়ে থাকল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়।
বিদায়বেলায় মেসির শেষ কথাগুলোর মধ্যে ছিল গভীর আবেগ_আর্জেন্টাইন হিসেবে জন্ম দেওয়ার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভামোস আর্জেন্টিনা!’
আরু|



