ফুটবলে সময় নষ্ট ঠেকাতে নতুন নিয়মের প্রথম শাস্তির শিকার হলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। গোলকিপারের চিকিৎসার কারণে খেলা বন্ধ হওয়ায় নতুন নিয়ম অনুযায়ী এক মিনিটের জন্য মাঠের বাইরে যেতে হয়েছে সান্তোস অধিনায়ককে।
ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-তে ভাস্কোর বিপক্ষে সান্তোসের ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে এই নিয়ম প্রথমবারের মতো আলোচনায় আসে। সান্তোসের গোলকিপার গ্যাব্রিয়েল ব্রাজাও চিকিৎসার জন্য মাঠে বসে পড়লে খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে কোচকে একজন আউটফিল্ড খেলোয়াড়কে অন্তত এক মিনিটের জন্য মাঠের বাইরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
কিন্তু সান্তোস কোচ কুকা নির্ধারিত ১০ সেকেন্ডের মধ্যে কোনো খেলোয়াড়কে বেছে নিতে পারেননি। ফলে নিয়ম অনুযায়ী দলের অধিনায়ক নেইমারকেই এক মিনিটের জন্য মাঠ ছাড়তে বলেন রেফারি। নেইমারই হয়ে গেলেন এই নিয়মে শাস্তি পাওয়া প্রথম আলোচিত খেলোয়াড়।
এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো গোলকিপারের চোট বা চিকিৎসার অজুহাতে ইচ্ছাকৃতভাবে খেলা থামিয়ে সময় নষ্ট করা এবং প্রতিপক্ষের গতি নষ্ট করার প্রবণতা কমানো। তবে গোলকিপার ও আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের সংঘর্ষ, গোলকিপারের বিরুদ্ধে ফাউল, রক্তপাত কিংবা গুরুতর চোটের মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই নিয়মের ব্যতিক্রম রয়েছে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা আইএফএবি ২০২৬-২৭ মৌসুমে ম্যাচের গতি বাড়াতে বেশ কিছু নতুন ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে গোলকিপারের হাতে বল ধরে রাখার সময় আট সেকেন্ডে সীমিত করা, থ্রো-ইন ও গোলকিক নিতে পাঁচ সেকেন্ডের ভিজ্যুয়াল কাউন্টডাউন এবং খেলোয়াড় বদলের সময় ১০ সেকেন্ডের সীমাও রয়েছে।
ইংলিশ ফুটবলেও ২০২৬-২৭ মৌসুমে গোলকিপারের চোটজনিত বিরতি নিয়ে একই ধরনের পরীক্ষামূলক নিয়ম চালু হয়েছে। সেখানে গোলকিপারের চোটে খেলা বন্ধ হলে কোচকে একজন আউটফিল্ড খেলোয়াড়কে অন্তত এক মিনিটের জন্য মাঠের বাইরে পাঠাতে হবে।
নতুন নিয়মের প্রয়োগের মাঝেই নেইমারের এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকা ফুটবল বিশ্বে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আর ঘটনাটি ঘটেছে এমন এক ম্যাচে, যেখানে নেইমারের সান্তোস শেষ পর্যন্ত ভাস্কোকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নেয়।
আরু|



