দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিশ্বকাপের শিরোপা জিতল স্পেন। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরে লা রোজা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় স্পেন। মাত্র ৫ মিনিটেই লামিনে ইয়ামাল গোলের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করলেও লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের যৌথ প্রতিরোধে সেই যাত্রায় গোল পায়নি তারা।
অন্যদিকে ৭ মিনিটে লিওনেল মেসির নিশ্চিত গোলের সুযোগ দুর্দান্তভাবে নষ্ট করে দেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় স্পেন।
প্রথম ২৩ মিনিটে মাত্র ৩২ শতাংশ বলের দখল ছিল আর্জেন্টিনার। তাদের তিন ফরোয়ার্ড-লিওনেল মেসি, নিকো গঞ্জালেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ মিলে মাত্র ১৭ বার বল স্পর্শ করতে পারেন। বিপরীতে স্পেনের মিডফিল্ডে রদ্রির নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণে চাপে পড়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা।
৩৯ মিনিটে ওয়ারজাবালের পাস থেকে শক্তিশালী শট নিয়েছিলেন ফাবিয়ান রুইজ। তবে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ দুর্দান্ত সেভ করে দলকে রক্ষা করেন। ৪১ মিনিটে ওয়ারজাবালকে ফাউল করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। ইনজুরির কারণে কিছুক্ষণ পর মাঠও ছাড়তে হয় তাকে।
প্রথমার্ধ শেষে বল দখলে স্পেন ছিল ৬৫ শতাংশে, যেখানে আর্জেন্টিনা ছিল মাত্র ৩৫ শতাংশে। স্পেন ৩১৩টি সফল পাস দেয়, বিপরীতে আর্জেন্টিনার ছিল ১৫৫টি। সবচেয়ে অবাক করা বিষয়, প্রথম ৪৫ মিনিটে লক্ষ্যে তো দূরের কথা, কোনো শটই নিতে পারেনি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
বিরতির পর লিওনেল স্কালোনি একাধিক পরিবর্তন আনলেও ম্যাচের চিত্র বদলাতে পারেননি। বরং স্পেন ধারাবাহিকভাবে সুযোগ তৈরি করতে থাকে। ৬২ মিনিটে মাঠে নামেন ফেরান তোরেস ও পেদ্রি। এরপর থেকেই স্পেনের আক্রমণের গতি আরও বেড়ে যায়।
৭০ মিনিট পার হওয়ার আগ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা লক্ষ্যে একটি শটও নিতে পারেনি। ১৯৬৬ সালে পরিসংখ্যান সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে এমন ঘটনা আর ঘটেনি।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলশূন্য সমতা থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামস বল জালে জড়ালেও ভিএআর পর্যালোচনার পর ফাউলের কারণে গোল বাতিল করেন রেফারি।
তবে হতাশ হয়নি স্পেন। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের ১০৬ মিনিটে পেদ্রো পোরোর আক্রমণ থেকে নিকো উইলিয়ামসের দারুণ অ্যাসিস্ট পেয়ে ফেরান তোরেস জোরালো শটে বল জালে পাঠান। সেই একমাত্র গোলেই ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারিত হয়।
শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমতায় ফেরার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ফলে ২০১০ সালের পর প্রথমবার এবং ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ট্রফি নিজেদের করে নেয় স্পেন। অন্যদিকে ২০১৪ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ ফাইনালে হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের স্বাদ পেল আর্জেন্টিনা।
আরু/


