স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে আসা কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহাকে ঘিরে নতুন তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা বলেছেন, ভোজিনহার মায়ের নামে এখন পর্যন্ত কোনো ভিসা আবেদনের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তবে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাকে সহায়তা করার চেষ্টা করা হবে।
স্পেনের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় ভোজিনহা জানিয়েছিলেন, ভিসা–সংক্রান্ত খরচ বহন করতে না পারায় তার মা যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেননি। ফলে ছেলের বিশ্বকাপের ম্যাচও মাঠে বসে দেখা হয়নি। তার এই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বব্যাপী ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ভোজিনহার এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের এক ডেমোক্র্যাট নেতারও নজরে আসে। তিনি বিষয়টি সমাধানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিওর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এরপর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, “এই ব্যক্তির কোনো ভিসা আবেদন আমাদের রেকর্ডে নেই। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের পরিবারের সদস্যরা ভিসা বন্ড ছাড়ের সুবিধা পান। আমরা তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ভোজিনহার মায়ের বর্তমানে বৈধ পাসপোর্ট নেই। তিনি নতুন পাসপোর্ট সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান নীতিমালায় কিছু দেশের নাগরিকদের ভিসার জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হতে পারে। তবে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা ও তাদের নিকটাত্মীয়দের ক্ষেত্রে এ নিয়ম শিথিল করা হয়েছে।

৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা স্পেনের বিপক্ষে সাতটি অসাধারণ সেভ করে বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটনের নায়ক বনে যান। তার দৃঢ়তায় ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রুখে দেয় মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ জনসংখ্যার দেশ কেপ ভার্দে।
এই পারফরম্যান্সের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন ভোজিনহা। কয়েক দিনের ব্যবধানে তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা কয়েক লাখ থেকে বেড়ে প্রায় এক কোটির কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামী রোববার উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে কেপ ভার্দে। সেই ম্যাচে গ্যালারিতে ভোজিনহার মাকে দেখা যাবে কি না, সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের অন্যতম আলোচনার বিষয়।
আরু/



