মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের একটি শাখায় গ্রাহকদের জমা দেওয়া টাকা নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক হিসাবে কয়েকজন গ্রাহকের প্রায় ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যাংকের হিসাবে জমা না হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে পরে আরও অভিযোগ সামনে আসায় টাকার পরিমাণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন শ্রীনগর শাখার ক্যাশ কর্মকর্তা শরিফুজ্জামান সোহাগ। ঘটনার প্রকাশের পর থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত এবং পলাতক রয়েছেন বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, তারা ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার পর ওই কর্মকর্তা নিজে রসিদে স্বাক্ষর ও ব্যাংকের সিল দিয়ে দেন। কিন্তু পরে হিসাব যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, সেই টাকা ব্যাংকের মূল সিস্টেমে জমা হয়নি।
বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শ্রীনগর শাখায় শত শত গ্রাহক ভিড় করেন। অনেকেই নিজেদের আমানত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়। ঘটনাস্থলে যান শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এদিকে অনুসন্ধানে আরও বড় অঙ্কের অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে অন্তত ১৪টি হিসাবে ২ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। আবার অন্য একটি প্রতিবেদনে অভিযোগের পরিমাণ আরও বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। এসব অঙ্ক এখনো তদন্তসাপেক্ষ।
শ্রীনগর ইউএনও হাছিবুর রহমান জানিয়েছেন, গ্রাহকদের হাতে থাকা রসিদ, ব্যাংকের হিসাব ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে। যেসব হিসাবে রসিদের সঙ্গে ব্যাংকের তথ্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে না, সেগুলোর নথি যাচাই করা হচ্ছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে অডিট করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরু|



