ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার পাশ থেকে শাকিল নামে এক বাংলাদেশি কিশোরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ত্রিপুরা রাজ্যের লঙ্কামুড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা সানমুড়া সীমান্ত এলাকার কাঁটাতারের পাশে পড়ে থাকা মরদেহটি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
নিহত শাকিল আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মালু মিয়ার ছেলে।
পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার গভীর রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সে। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি ও মাইকিং করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শাকিলের বাবা মালু মিয়া জানান, বুধবার রাতে তার মেয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান ছিল। রাত সাড়ে ১২টার দিকে অনুষ্ঠান শেষে শাকিল বাড়িতে ফিরে মায়ের সঙ্গে ঘুমাতে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার ঘর থেকে বের হয়ে যায়। এরপর আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন।
পরিবারের দাবি, শাকিল কিছুটা মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। কীভাবে সে বাড়ি থেকে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছালেন, তা তারা জানেন না।
বিজিবি ফকিরমুড়া ক্যাম্পের কমান্ডার নিরাময় চাকমা জানান, আখাউড়া-ত্রিপুরা সীমান্তের ২০২২-৯এস সীমান্ত পিলারের কাছে সানমুড়া এলাকায় কাঁটাতারের বেড়ার পাশে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে বিএসএফের নজরে আসে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান।
এ ঘটনায় আখাউড়া থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে যায়। পরে বিজিবি ও বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ হয়। শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে রাত ২টার দিকে বিএসএফ মরদেহটি তাদের হেফাজতে নেয়।
২৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ জানিয়েছেন, কিশোরটি কীভাবে সীমান্ত এলাকায় গেল এবং কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের পর মরদেহটি বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। রোববার পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ হস্তান্তরের কথা রয়েছে।
শাকিলের মৃত্যু ঘিরে এলাকায় শোকের পাশাপাশি তার সীমান্তে পৌঁছানোর কারণ ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। তবে ময়নাতদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী তদন্তের আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
আরু|



