কুমিল্লার ১৩ বছর বয়সী শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় দেশবাসী মর্মাহত। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হয়ে আসামিদের আটক করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে পুলিশ।
তিনি বলেন, রামিশা হত্যাকাণ্ডের মতো কুমিল্লার অপ্রতিম হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, নিহত অপ্রতিমের সঙ্গে কিশোর অপরাধ চক্রের সদস্যদের চলাফেরা ও ওঠাবসা ছিল। তাদের বয়স অপ্রতিমের চেয়ে প্রায় ৫ থেকে ১০ বছর বেশি। প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা তুহিনের কাছ থেকে অপ্রতিমের আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তুহিন হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশের তথ্যমতে, অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুজনকে আটক করা হয়।
এদিকে, অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোনটি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সালমানপুর এলাকায় এক কিশোরের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্তে পাওয়া আলামতের মধ্যে এই ফোনটিকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে। সে কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সালমানপুর এলাকার লালমাই পাহাড়ের পাদদেশের একটি নির্জন স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রোববার সকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কোটবাড়ির গন্ধমতিতে তাকে দাফন করা হয়। জানাজা ও দাফনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয়রা অংশ নেন।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত ও আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে পাওয়া তথ্য ও আলামত যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে দ্রুত বিচারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আশ্বাসে অপ্রতিমের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়েছে।
আরু|



