দেশের সার সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে ৬৪ জেলায় মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
বুধবার জাতীয় সংসদে সার সংকট নিয়ে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে সারাদেশে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি মনিটরিং সেল দুজন করে যুগ্মসচিব ও উপসচিবের তত্ত্বাবধানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দেশের যেকোনো স্থান থেকে সারসংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়া গেলে এসব সেল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
তিনি জানান, দেশে বছরে সারের চাহিদা ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার টন। বর্তমানে মজুত রয়েছে ৫১ লাখ ৭১ হাজার টন। ফলে প্রায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার টন সার উদ্বৃত্ত থাকবে।
সার ডিলার নিয়োগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের মাধ্যমেই এতদিন সার বিতরণ হয়ে আসছিল। তাদের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৭৫৯ জন পালিয়ে যাওয়ায় এসব এলাকায় ডিলারশিপ শূন্য রয়েছে।
শূন্য ডিলারশিপ পূরণে ইউনিয়ন পর্যায়ে আরও ৪ হাজার ৯১৮ জন নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ডিলার ইউনিয়ন পর্যায়ে আরও দুজন করে অতিরিক্ত ডিলার নিয়োগ করবেন। এতে সার বিতরণ ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সার সংকটের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমন ধান পাকার পর্যায়ে থাকায় কৃষকদের মধ্যে সারের ব্যাপক চাহিদা নেই। তবে অনেক কৃষক আসন্ন বোরো মৌসুমের জন্য এখন থেকেই সার কিনে মজুত করার চেষ্টা করছেন। এতে নন-ইউরিয়া সারের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এখনো নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কারণ, ডিলার নিয়োগের আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর।
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশে বর্তমানে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
তিনি জানান, ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ইউরিয়ার মজুত ৪ লাখ ১৮ হাজার টন, টিএসপি ৩ লাখ ৪৩ হাজার টন, ডিএপি ৩ লাখ ২ হাজার টন এবং এমওপি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯০০ টন।
এ ছাড়া পরিবহনের পথে রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ২০০ টন টিএসপি, ১ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ টন ডিএপি এবং ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪০০ টন এমওপি।
বর্তমানে সারাদেশে ১ হাজার ১০৫ জন মূল ডিলার ও ৩১ হাজার ৬০০ জন খুচরা ডিলার রয়েছেন। আরও ৮ হাজার ৬৮৭ জন নতুন ডিলার এবং ১৬ হাজার খুচরা ডিলার নিয়োগ করা হলে সার বিতরণ ব্যবস্থা আরও নির্বিঘ্ন হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
আরু|



