মেহেরপুর শহরে গভীর রাতে একই পরিবারের তিনজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় শাওন (৩০) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
হামলায় তার প্রেমিকা স্মৃতি আক্তারের (২২) একটি হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ঘটনায় স্মৃতির বাবা সেলিম হোসেন (৫০) ও মা রেবেকা সুলতানা কামনাও (৪২) গুরুতর আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শহরের লর্ড মার্কেট এলাকায় ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সেলিম হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শাওন মেহেরপুর শহরের মল্লিকপাড়ার আবু তালেবের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, রাতে সেলিমের বাড়ির দিক থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে শাওনকে ওই পরিবারের সদস্যদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে দেখা যায়। পরে সে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
হামলায় স্মৃতি আক্তারের একটি হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে শাওনকে আটক করে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, স্মৃতি আক্তারের সঙ্গে শাওনের তিন থেকে চার বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কয়েকদিন আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল বলেও প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এক থেকে দুই দিন আগে স্মৃতি শাওনকে ডিভোর্স দিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। এর জেরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
ওসি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। হামলার পেছনে অন্য কোনো বিরোধ বা অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একই পরিবারের তিনজনের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আরু|



