দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আবারও উদ্বেগ বাড়ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২ হাজার ৭৬টি মামলা হয়েছে। অর্থাৎ, মাসে গড়ে প্রায় ২৯৭টি এবং প্রতিদিন প্রায় ১০টি হত্যাকাণ্ডের মামলা হয়েছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারিতে ২৮৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫০, মার্চে ৩১৭, এপ্রিলে ২৮৮, মে মাসে ৩১০, জুনে ৩২৬ এবং জুলাইয়ে ২৯৮টি হত্যা মামলা হয়েছে। বিশেষ করে মার্চ, মে ও জুনে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে হত্যা, রাজনৈতিক সংঘাত, মব সহিংসতা, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার এবং ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা জনমনে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারকেও হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
•কেন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না?
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অভিযান চালিয়ে অপরাধ কমানো সম্ভব নয়। অপরাধের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব, অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার, মাদক এবং ব্যক্তিগত বিরোধ অনেক ক্ষেত্রে সহিংসতার পেছনে ভূমিকা রাখছে।
আরেকটি বড় প্রশ্ন হচ্ছে বিচার নিশ্চিত করার গতি। কোনো কোনো আলোচিত ঘটনায় দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার হলেও সব হত্যাকাণ্ডে একই ধরনের অগ্রগতি দেখা যায় না। ফলে অপরাধীদের মধ্যে শাস্তি এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হলে তা ভবিষ্যতে আরও অপরাধকে উৎসাহিত করতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পুলিশের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির দাবি করা হলেও প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০টি হত্যাকাণ্ডের মামলা এবং ধারাবাহিক সহিংসতার ঘটনা সেই দাবিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
•করণীয় কী?
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জোরালো অভিযান, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ব্যবস্থা, রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী ব্যক্তির হস্তক্ষেপমুক্ত তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে মব সহিংসতা ঠেকাতে জনসচেতনতা ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান প্রয়োজন।
প্রতিদিন গড়ে ১০টি হত্যাকাণ্ডের মামলা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয় এটি নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের সতর্কবার্তা। তাই বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, অপরাধের কারণ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে।
আরু|



