ইসলামি ও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের পার্থক্যের কারণে ২০৩৯ সালে ঘটতে যাচ্ছে বিরল এক ঘটনা। হিসাব অনুযায়ী, একই গ্রেগরিয়ান বছরে মুসলমানরা তিনটি ঈদ এবং দুটি হজের মৌসুম দেখতে পারেন।
এর কারণ, হিজরি ক্যালেন্ডার চাঁদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর একটি বছর সাধারণত প্রায় ৩৫৪ দিনের। অন্যদিকে গ্রেগরিয়ান বছর ৩৬৫ দিনের। ফলে প্রতি বছর হিজরি তারিখ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন করে এগিয়ে আসে।
উম্মুল কুরা ক্যালেন্ডারভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের শুরুতেই হবে প্রথম হজের আনুষ্ঠানিকতা। ৪ জানুয়ারি আরাফার দিন এবং ৫ জানুয়ারি ১০ জিলহজ ১৪৬০ হিজরি অনুযায়ী ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ। এরপর হিজরি বছর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মীয় তারিখগুলো আরও এগিয়ে আসবে।
এরপর ১৪৬১ হিজরির রমজান শেষে ১৯ অক্টোবর ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ধরা হয়েছে। আর বছরের শেষ দিকে আবার শুরু হবে জিলহজ মাস। ২৫ ডিসেম্বর আরাফার দিন এবং ২৬ ডিসেম্বর ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ। অর্থাৎ একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুই ভিন্ন হিজরি বছরের হজের প্রধান আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
ফলে ২০৩৯ সালের সম্ভাব্য ধারাবাহিকতা দাঁড়াচ্ছে—জানুয়ারিতে ঈদুল আজহা, অক্টোবরে ঈদুল ফিতর এবং ডিসেম্বরে আবার ঈদুল আজহা। একই সঙ্গে জানুয়ারি ও ডিসেম্বর দুই সময়েই হজের মৌসুম পড়বে।
তবে বিষয়টি বোঝার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এখানে কোনো একটি হিজরি বছরে দুইবার হজ হচ্ছে না। বরং ১৪৬০ হিজরির হজ হবে বছরের শুরুতে এবং ১৪৬১ হিজরির হজ হবে বছরের শেষে। চান্দ্র ও সৌর ক্যালেন্ডারের দৈর্ঘ্যের পার্থক্যের কারণেই দুটি হজ একই গ্রেগরিয়ান বছরের মধ্যে পড়ছে।
এ ধরনের ক্যালেন্ডার সমন্বয় এর আগেও দেখা গেছে। যেমন ২০৩০ সালে একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুবার রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে- একটি জানুয়ারিতে এবং আরেকটি ডিসেম্বরে। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে।
তবে ২০৩৯ সালের তারিখগুলো এখনই চূড়ান্ত নয়। উম্মুল কুরা ক্যালেন্ডারসহ বিভিন্ন গণনাভিত্তিক ক্যালেন্ডারে সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা যায়, কিন্তু বাস্তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে কোনো কোনো তারিখ এক দিন এদিক-সেদিক হতে পারে। তাই ২০৩৯ সালের ঈদ ও হজের চূড়ান্ত তারিখ সংশ্লিষ্ট সময়ে ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের ঘোষণার ওপর নির্ভর করবে।
অর্থাৎ, ২০৩৯ সাল হতে যাচ্ছে ইসলামি ও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের এক বিরল সমন্বয়ের বছর যেখানে এক গ্রেগরিয়ান বছরেই দেখা যেতে পারে দুই হজ ও তিন ঈদ।
আরু|



