২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পবিত্র হজ পালন করা ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজিকে হজ প্যাকেজের উদ্বৃত্ত ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দিচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে ১০ জন হাজির হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে রিফান্ডের চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। বাকি হাজিদের টাকা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের জন্য তিনটি প্যাকেজ ছিল- হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ), হজ প্যাকেজ-২ এবং হজ প্যাকেজ-৩। বাড়িভাড়া নির্ধারিত অর্থের চেয়ে কমে সম্পন্ন হওয়া এবং নেগোশিয়েশনের মাধ্যমে সার্ভিস চার্জ কমানোর ফলে প্যাকেজগুলোর খরচে উদ্বৃত্ত অর্থ জমা হয়। হিসাব-নিকাশ শেষে সেই অর্থ সংশ্লিষ্ট হাজিদের ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্যাকেজ ও আবাসনের ধরন অনুযায়ী ফেরতের অর্থের পরিমাণও ভিন্ন। হোটেল বুশরা আল দুররাতে অবস্থানকারী পূর্ণ প্যাকেজের হাজিরা প্রত্যেকে ৫৮ হাজার ৬৯৭ টাকা ৩২ পয়সা এবং শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ৪৬ হাজার ৮৮৮ টাকা ৪০ পয়সা করে ফেরত পাবেন।
অন্যদিকে হোটেল লুলুয়াত আল তাওহীদের সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা ২ হাজার ৫০৫ টাকা ৪৯ পয়সা, শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ৮ হাজার ৭৩০ টাকা ৭০ পয়সা এবং দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৬২ হাজার ৩৬১ টাকা ৭৯ পয়সা করে পাবেন। বিভিন্ন প্যাকেজ ও আপগ্রেডেশনের ক্ষেত্রে ফেরতের পরিমাণ ৩ হাজার ২৮৭ টাকা থেকে ৭৮ হাজার ৭১৩ টাকা পর্যন্ত রয়েছে।
তবে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৩ জন হাজির চিকিৎসা ব্যয় তাদের স্বাস্থ্যবিমার অর্থের চেয়ে বেশি হওয়ায় তারা কোনো রিফান্ড পাবেন না।
হাজিদের সতর্ক করে ধর্ম মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, রিফান্ডসহ মন্ত্রণালয়ের সব অনুদান বা সহায়তার অর্থ কেবল ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়।
এ অর্থ পাঠানোর কথা বলে কেউ যদি ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর, বিকাশ, নগদ বা রকেটের পিন নম্বর চায়, তাহলে তাকে প্রতারক হিসেবে সতর্ক থাকতে হবে।
আরু|



