সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হাফেজ ও হাফেজারা অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। বিভিন্ন শাখায় বাংলাদেশের অন্তত চার প্রতিযোগী পুরস্কার জিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের কোরআন শিক্ষার ঐতিহ্য ও হিফজ শিক্ষার্থীদের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
সৌদি আরবের সরকারি সংবাদ সংস্থা এসপিএর তথ্য অনুযায়ী, এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশ থেকে মোট ৩৩৪ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে কোরআন হিফজ, তিলাওয়াত, তাজবিদ ও সংশ্লিষ্ট জ্ঞান যাচাই করা হয়। এবারের আসরের বিশেষত্ব ছিল প্রথমবারের মতো নারীদের জন্য আলাদা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশের হয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পান শায়খ মুহাম্মদ মাহমুদ আল-হাসান। পুরুষদের তৃতীয় শাখায় পূর্ণ কোরআন হিফজ ও তাজবিদ বিভাগে তিনি তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। এ সাফল্যের জন্য তিনি পুরস্কার হিসেবে পান ১ লাখ ৮০ হাজার সৌদি রিয়াল।
আরেক বাংলাদেশি প্রতিযোগী মুহাম্মদ জাকারিয়া পুরুষদের চতুর্থ শাখায় ১৫ পারা কোরআন হিফজ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন। এ বিভাগে তার পুরস্কারের অর্থ ১ লাখ ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে তাকে ঢাকার আর রাইহান ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নারীদের বিভাগেও বাংলাদেশের সাফল্য এসেছে। মুসফিরা বিনতে মাহমুদ নারীদের তৃতীয় শাখায় পূর্ণ কোরআন হিফজ ও তাজবিদ বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। এ জন্য তিনি ১ লাখ ৮০ হাজার সৌদি রিয়াল পুরস্কার পান।
এ ছাড়া বাংলাদেশের রাবিতাহ বিনতে রমজান নারীদের ১৫ পারা হিফজ বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন এবং ১ লাখ ৩০ হাজার সৌদি রিয়াল পুরস্কার পান বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে এবারের আসরে বাংলাদেশের মোট চারটি পুরস্কার পাওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
এবারের প্রতিযোগিতায় পুরুষ ও নারী দুই বিভাগেই পাঁচটি করে শাখা ছিল। এর মধ্যে সর্বোচ্চ মর্যাদার প্রথম শাখায় পুরুষদের বিভাগে সৌদি আরবের আবদুর রহমান বিন মুখতার বিন আহমদ মুহাম্মদ এবং নারীদের বিভাগে আলজেরিয়ার জুমানা শুরাইতিয়াহ প্রথম স্থান অর্জন করেন। দুজনই পান ৫ লাখ সৌদি রিয়াল করে।
সৌদি আরবের ইসলামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ৪৬তম বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা ৬ আগস্ট শুরু হয়। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে পুরুষদের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় মসজিদুল হারামে এবং নারীদের প্রতিযোগিতার জন্য আলাদা ভেন্যু রাখা হয়। ১৩ আগস্ট সৌদি সরকারি সংবাদ সংস্থা জানায়, চূড়ান্ত পর্ব শেষ হয়েছে এবং মোট ৫০ জন বিজয়ী নির্বাচিত হয়েছেন।
এবারের প্রতিযোগিতায় মোট পুরস্কারের অর্থ নির্ধারণ করা হয় ১ কোটি ২৬ লাখ সৌদি রিয়াল। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এটি প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ পুরস্কার তহবিল। পাঁচটি শাখায় কোরআন হিফজ, তিলাওয়াত, তাজবিদ ও সংশ্লিষ্ট জ্ঞান যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রতিযোগীদের মূল্যায়ন করা হয়।
মক্কার এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিযোগীদের একাধিক পুরস্কার অর্জন দেশের জন্য নিঃসন্দেহে গৌরবের। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের কোরআন হিফজ শিক্ষা, তাজবিদ চর্চা এবং মাদরাসাভিত্তিক ধর্মীয় শিক্ষার আন্তর্জাতিক মানের সক্ষমতারও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরু|



