দেশে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও মানুষের আয় সেই তুলনায় বাড়েনি, এমন মন্তব্য করে সরকারের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বর্তমানে একটি ডিমের দাম ১৫ টাকা। নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই দাম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ মাছ-মাংস নিয়মিত কেনার সামর্থ্য না থাকায় অনেক পরিবারের জন্য ডিম প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
নাহিদ ইসলাম বলেন, শুধু ডিম নয় চাল, আটা, তেল, চিনি, মুরগি, মাছ ও সবজিসহ প্রায় সব মৌলিক খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। তাঁর ভাষায়, মানুষের আয় বাড়েনি, কিন্তু জীবনযাপনের ব্যয় বেড়েছে।
পণ্যের দাম বাড়ার পেছনে তিনি সরকারের তিনটি সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন- বাজেট, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম এবং সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক চাঁদাবাজি। তাঁর দাবি, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়লে সেচ, পোলট্রি, মাছ চাষ, হিমাগার ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি খরচ ভোক্তাকেই বহন করতে হয়।
বাজেট প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন মেটাতে ভ্যাট বাড়ানো, ঋণ নেওয়া বা টাকা ছাপানোর মতো পদক্ষেপ নিতে হলে তার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়বে। বিশেষ করে ভ্যাট বাড়লে পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং টাকা ছাপালে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ ছাড়া সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক চাঁদাবাজির কারণে উৎপাদন খরচের তুলনায় পণ্য বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নাহিদ ইসলামের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে উচ্চবিত্তের তুলনায় নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবার বেশি চাপে পড়ে। কারণ তাদের আয়ের বড় অংশই খাবারসহ মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় হয়।
তিনি দাবি করেন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল। এনসিপির নির্বাচনি ইশতেহার ও ছায়া বাজেটে ধনীদের কর ফাঁকি বন্ধ, অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রকল্প এড়িয়ে অর্থের সংস্থান, মধ্যবিত্তের ওপর কর কমানো এবং নিত্যপণ্যের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শেষে ডিমের দামকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার চাপের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের কোটি পরিবারের মায়েদের এখন ১৫ টাকার একটি ডিম ভেজে সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দিতে হচ্ছে।
আরু|



