ঢাকা-রংপুর লংমার্চের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের রাজনৈতিক মিত্ররা সরকারবিরোধী পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, এ কর্মসূচির ফলে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগও রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পেতে পারে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভ ও তিনি গুলিবিদ্ধ হওয়ার স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন।
রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে আগামী ডিসেম্বর থেকে সরকার পতনের আন্দোলনের কথা বলা হচ্ছে। একই সময়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। তাঁর মতে, এ পরিস্থিতিতে লংমার্চের মতো কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।
তিনি অভিযোগ করেন, লংমার্চের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মাঠে ফেরার পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, রাজপথ অশান্ত হলে আওয়ামী লীগ সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি-দখলদারি বন্ধসহ কয়েকটি দাবিতে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
জামায়াতের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশের পর লংমার্চ রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে। পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা এবং রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে।
রাশেদ খাঁন লংমার্চের কারণে জনভোগান্তি, সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন এবং জ্বালানি অপচয়ের আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দাবিগুলো নিয়ে রাজনৈতিকভাবে আলোচনা করা সম্ভব হলেও সড়ক বন্ধ করে দীর্ঘ কর্মসূচি আয়োজনের প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, সরকার ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং লংমার্চকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। তবে কর্মসূচিকে ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অস্থিতিশীলতা যাতে তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সতর্ক রয়েছে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, ঢাকা–রংপুর লংমার্চ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা, বিশৃঙ্খলা বা ভাঙচুরের পরিকল্পনা নেই।
এর আগে রাশেদ খাঁন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার মান ও পরিধি নিয়ে মতবিনিময় এবং বার্ন ইউনিট পরিদর্শন করেন। পরে তিনি রোগী ও স্বজনদের সঙ্গেও কথা বলেন।
এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমানসহ স্থানীয় বিএনপি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরু|



