দেশে শিশু নিখোঁজের ঘটনা ভয়াবহভাবে বাড়ছে এমন উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
তিনি জানান, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই এই সাত মাসে সারা দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ জন শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে এখনো দুই হাজারের বেশি শিশুর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলেও সংসদে উল্লেখ করেন তিনি।
রোববার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন রুমিন ফারহানা।
তিনি বলেন, আইনি সংজ্ঞা অনুযায়ী সরকারি কোনো বাহিনী বা তাদের অনুমোদন ও সমর্থনে কাউকে বেআইনিভাবে আটক করা হলে সেটিকে গুম বলা হয়। তাই শিশু নিখোঁজের ঘটনাকে সরাসরি গুমের আইনি সংজ্ঞার আওতায় ফেলা যায় না। তবে বিষয়টি মানবিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
নিখোঁজ শিশুদের স্বজনদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, সন্তান হারানো পরিবারগুলো একত্রিত হয়ে সভা-সমাবেশ করছে। তাদের একটাই দাবি নিখোঁজ সন্তানদের দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রতিনিয়ত এত শিশু কীভাবে নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে? এসব শিশু কোনো সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্রের শিকার হচ্ছে কি না, কিংবা কোনো অপরাধী চক্রের হাতে পড়ছে কি না তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
রুমিন ফারহানা বলেন, সন্তান হারানোর পর স্বজনরা দিনের পর দিন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, নিখোঁজ প্রতিটি শিশুর অবস্থান শনাক্ত করে তাদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
একই সঙ্গে শিশু নিখোঁজের পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট কাজ করছে কি না, তা খুঁজে বের করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে দ্রুত অভিযান ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান তিনি।
আরু|



