ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার কাঠামোর মধ্যেই দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার গণভোটের রায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষারও প্রতিফলন ঘটায়নি।
তার দাবি, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দলীয়করণের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও একই ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই দলীয় প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ফলে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই এবং এ ধরনের প্রক্রিয়াকে গণতান্ত্রিক বলা যায় না।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে যে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন, তা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায়ের আলোকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতিতে সংস্কার করা হলে রাষ্ট্রপতির পদ আরও গ্রহণযোগ্য ও মর্যাদাপূর্ণ হতে পারত বলে মনে করেন তিনি।
তবে বর্তমান ব্যবস্থার বিরোধিতা করলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়নি বিরোধী দল।
নাহিদ ইসলাম জানান, গণতন্ত্রের প্রতি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে এবং নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতেই বিরোধী জোট প্রার্থী দিয়েছে।
এর আগে ১১ দলীয় জোট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করে।
নাহিদ ইসলাম তখন জানিয়েছিলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঠেকানো এবং জনগণের সামনে একটি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়াই প্রার্থী দেওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোট দেওয়ার অধিকার সংসদ সদস্যদের।
নাহিদ ইসলামের মতে, প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়াই প্রচলিত কাঠামোয় নির্বাচন হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিরোধী দলের প্রার্থী দেওয়ার ফলে নির্বাচন নিয়ে জনআলোচনা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
আরু|



