আজ ১১ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। বাল্যবিয়ে বন্ধ এবং কন্যাশিশুদের অধিকার সুরক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বানের মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে দিবসটি। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘বাল্যবিয়ে বন্ধ করুন এবং মেয়েদের অধিকার সুরক্ষায় বিনিয়োগ করুন।’
কন্যাশিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্ভাবনার বিষয়টি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়। এ উপলক্ষে বিভিন্ন দেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর ১১ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব গ্রহণ করে। এর ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর প্রথমবারের মতো দিবসটি পালিত হয়।
জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফের ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়েছে এমন নারী ও মেয়ের সংখ্যা প্রায় ৬৫ কোটি। বিশ্বজুড়ে প্রতি পাঁচজন মেয়ের একজনের বাল্যবিয়ের শিকার হওয়ার চিত্রও উঠে এসেছে সংস্থাটির তথ্যে।
বাল্যবিয়ে কন্যাশিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপদ ভবিষ্যতের পথে বড় বাধা। অল্প বয়সে বিয়ের কারণে অনেক মেয়েকে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়। পাশাপাশি অল্প বয়সে মাতৃত্ব, স্বাস্থ্যঝুঁকি, পারিবারিক সহিংসতা এবং অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতার মতো সমস্যার মুখেও পড়তে হয় তাদের।
এ ছাড়া দারিদ্র্য, পুষ্টিহীনতা, লিঙ্গবৈষম্য, সহিংসতা ও শিক্ষার সুযোগের অভাব এখনো অনেক কন্যাশিশুর স্বাভাবিক বিকাশে বাধা হয়ে রয়েছে। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক সংকটের সময় এসব ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
দিবসটির মূল লক্ষ্য শুধু কন্যাশিশুদের সমস্যাগুলো তুলে ধরা নয়; বরং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া। এ জন্য মানসম্মত শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, সহিংসতা বন্ধ এবং আইনি সুরক্ষা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণে মেয়েদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করাও জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কন্যাশিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নে বিনিয়োগ শুধু তাদের ব্যক্তিগত জীবনেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনে না; বরং পরিবার, সমাজ ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রতিটি কন্যাশিশুর রয়েছে নিরাপদ শৈশব, শিক্ষা ও নিজের স্বপ্ন পূরণের অধিকার। তাই বাল্যবিয়ে বন্ধ, বৈষম্য দূর এবং মেয়েদের অধিকার নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে একটি সমতাভিত্তিক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে।
আরু|



