মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের অংশগ্রহণের ছবি প্রকাশের পর সেটিকে এআই-নির্মিত বা কারসাজি করা ছবি হিসেবে প্রচারের বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।
শনিবার (৩ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে যাওয়া বিশ্বনেতা ও তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে ট্রাম্প আয়োজিত রিসেপশনে প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রী অংশ নেন। ওই অনুষ্ঠানের একটি ছবি হোয়াইট হাউস থেকে পাঠানো হয় এবং পরে তা জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এর আগে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান দাঁড়িয়ে রয়েছেন। ছবিটি হোয়াইট হাউসের সৌজন্যে প্রকাশ করা হয়েছে বলে পৃথক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ছবিটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বিভিন্ন পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। প্রেস উইংয়ের ভাষ্য, মূল ছবিটিকে মিথ্যা প্রমাণের চেষ্টা করতে এর সঙ্গে আরেকটি এআই-নির্মিত ছবি যুক্ত করা হয়েছে।
প্রেস উইং জানায়, ওই ছবিতে কসোভোর প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তির সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি দৃশ্যকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ছবিতে ট্রাম্পকে কার্ডবোর্ডের কাটআউট হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্ম Hibrid.info-ও আলবিন কুর্তি ও ট্রাম্পের কথিত সাক্ষাতের একটি ছবি যাচাই করে সেটিকে এআই দিয়ে তৈরি বলে উল্লেখ করেছে। তাদের যাচাইয়ে কুর্তির সঙ্গে ট্রাম্পের এমন সাক্ষাতের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং একাধিক এআই শনাক্তকরণ ব্যবস্থার বিশ্লেষণেও ছবিটি কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার উচ্চ সম্ভাবনার কথা উঠে আসে।
এ ছাড়া ২ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে রোমানিয়ার প্রেসিডেন্সিও ট্রাম্পকে কার্ডবোর্ডের কাটআউট হিসেবে দেখানো ছবিগুলোকে এআই-নির্মিত বলে উল্লেখ করে।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে ট্রাম্পের ছবির আদলে ওই ব্যঙ্গাত্মক ছবি তৈরি করা হয়েছিল।
প্রেস উইংয়ের বক্তব্য, এআই-নির্মিত ওই ছবিকে ব্যবহার করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের রিসেপশনে অংশগ্রহণের প্রকাশিত ছবিটিকে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অর্থাৎ, প্রেস উইংয়ের ব্যাখ্যার মূল বক্তব্য হলো- তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশিত ছবিটি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘কার্ডবোর্ড ট্রাম্পের’ ছবিটি একই ধরনের বা একই উৎসের ছবি নয়। বরং পরের ছবিটিকে এআই-নির্মিত/ম্যানিপুলেটেড হিসেবে বিভিন্ন যাচাইয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আরু|



