জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে আজ বাংলায় ভাষণ দিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৩টার দিকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ হলে তিনি এ ভাষণ দেবেন। নিউইয়র্ক সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের দিকে তার বক্তব্য দেওয়ার সূচি রয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে তার প্রথম ভাষণ।
জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কের বৃহস্পতিবারের বিকেলের অধিবেশনে ১৮ জন বক্তার মধ্যে তারেক রহমান ১১তম বক্তা। তার বক্তব্যের জন্য স্বেচ্ছাধীন ১৫ মিনিট সময় নির্ধারিত রয়েছে। ভাষণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। পাশাপাশি বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, মানবিক সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার কথা রয়েছে।
জাতিসংঘে ভাষণের মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে সাধারণ পরিষদের মঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। এর আগে তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। এরপর তার মা ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর ৪৮তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন।
বাংলাদেশের জন্য এবারের অধিবেশন আরও তাৎপর্যপূর্ণ। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এবারের সাধারণ পরিষদের মূল প্রতিপাদ্য- ‘Restoring trust, managing transformation: a United Nations that delivers for all’ অর্থাৎ আস্থা পুনর্গঠন ও পরিবর্তন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ গড়ে তোলা
ভাষণের আগে দিনের শুরুতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বের হুমকি মোকাবিলায় জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়ে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। জাতিসংঘের সূচিতেও ২৪ সেপ্টেম্বর এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি রয়েছে।
এ ছাড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু প্রতিরোধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফারি সংযুক্তির বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচিও রয়েছে।
জাতিসংঘে ভাষণ শেষে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আরও কিছু কর্মসূচি শেষে দেশে ফেরার প্রস্তুতি রয়েছে তার।
সব মিলিয়ে, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ বাংলাদেশের বর্তমান জাতীয় অগ্রাধিকার ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে দেশের অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আয়োজন হিসেবে সামনে এসেছে।
আরু|



