দেশের গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন প্রায় আড়াই কোটি মানুষ। যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে দেশের সব গণপরিবহন শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
একই সঙ্গে গণপরিবহনে আইন অনুযায়ী ‘তামাক ব্যবহার ও ধূমপান নিষেধ’ নির্দেশক চিহ্ন এবং বাধ্যতামূলক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রদর্শন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজধানীর বনানীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সভাকক্ষে ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও বিআরটিএর যৌথ আয়োজনে ‘তামাকমুক্ত গণপরিবহন নিশ্চিতকরণে করণীয়’ শীর্ষক সভায় এসব দাবি উঠে আসে।
বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটিএফকের দক্ষিণ এশিয়া ও জর্ডানের আঞ্চলিক পরিচালক (প্রোগ্রামস) ড. মাহিন মালিক।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম। তিনি গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (জিএটিএস) ২০১৭-এর তথ্য তুলে ধরে জানান, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ধূমপান করেন। পাশাপাশি প্রায় আড়াই কোটি অধূমপায়ী মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন।
তিনি জানান, বিশেষ করে গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের হার প্রায় ৪৪ শতাংশ। চালক ও চালকের সহকারীদের ধূমপানের কারণে অনেক সময় যাত্রীরা বাধ্য হয়ে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। এতে ধূমপান না করেও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা এ ঝুঁকিতে বেশি পড়ছেন বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
সভায় গণপরিবহনকে তামাকমুক্ত রাখতে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—বিআরটিএর বিভাগীয় ও সার্কেল অফিসসহ সব কার্যালয় এবং প্রতিটি গণপরিবহনে আইন অনুযায়ী ‘তামাক ব্যবহার ও ধূমপান নিষেধ’ নির্দেশক চিহ্ন ও সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রদর্শন নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও চালকদের নিয়ে নিয়মিত তামাক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং বাসের টিকিটে ধূমপানবিরোধী বার্তা সংযুক্ত করার সুপারিশ করা হয়।
বিআরটিএর ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি গণপরিবহন ও জনসমাগমস্থলে ধূমপানের জন্য আইনে নির্ধারিত জরিমানার বিধান কঠোরভাবে কার্যকর করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণের কথাও বলা হয়।
সভায় বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, তামাক ও ধূমপানমুক্ত টেকসই গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সহযোগিতায় ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬১ হাজারের বেশি গণপরিবহন চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের সুরক্ষায় ভবিষ্যতেও চালক প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আরু|



