বিশ্বজুড়ে আবারও বাড়ছে খাদ্যপণ্যের দাম। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, খরা-তাপদাহ এবং যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য সরবরাহে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের চাপ।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও জানিয়েছে, গত আগস্টে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এফএওর তথ্য অনুযায়ী, আবহাওয়ার বিরূপ পরিস্থিতি এবং কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়ায় গম, চাল ও অন্যান্য শস্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে বেড়েছে রান্নার তেল, চিনি, মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের দাম।
সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে চিনির দামে। শুধু আগস্ট মাসেই চিনির দাম প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। ব্রাজিলে উৎপাদন কমে যাওয়া এবং ইউরোপ ও এশিয়ার প্রতিকূল আবহাওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে রান্নার তেলের দামও প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপের তীব্র তাপদাহ ও খরা, এশিয়ার চরম আবহাওয়া এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, সব মিলিয়ে বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা বড় চাপে পড়েছে। কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য পরিবহনও নতুন করে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ মাক্সিমো তোরেরো সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু সংকট, যুদ্ধ এবং পরিবহন ব্যবস্থায় বাধা- এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে খাদ্যবাজারে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
এদিকে চলতি বছর বিশ্বে শস্য উৎপাদন নিয়ে আগের পূর্বাভাসও কমিয়েছে জাতিসংঘ। আবহাওয়ার পরিস্থিতির কারণে পূর্বাভাস থেকে প্রায় ৩৪ লাখ টন শস্য উৎপাদন বাদ দেওয়া হয়েছে।
যদিও চলতি বছরের মোট শস্য উৎপাদন ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হতে পারে, তবুও বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্বজুড়ে একের পর এক সংকটের কারণে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়লে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর এমন আশঙ্কাই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
আরু|



