রাজধানীর গণপরিবহনে নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) চালু হচ্ছে বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস’। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) উদ্যোগে চালু হওয়া গোলাপি রঙের এই ‘পিংক বাস’ পরিচালনা করবেন নারী চালক, নারী কন্ডাক্টর ও নারী হেলপার।
বিআরটিসির উদ্যোগটি নতুন করে আলোচনায় আসে চলতি বছরের মার্চে। সরকারের নির্দেশনায় নারীবান্ধব এই বাস সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারি তথ্যবিবরণীতেও বলা হয়েছিল, বাসগুলো নারী চালক, কন্ডাক্টর ও হেলপারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
এরপর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, নারীদের নিরাপত্তা ও সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন রুটে ‘পিংক বাস’ চালু করা হবে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে বিশেষ বাস চলাচল করবে। নতুনবাজার-মতিঝিল, তালতলা-মতিঝিল, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, মিরপুর-১০-মতিঝিল, মিরপুর-১২-মতিঝিল, আব্দুল্লাহপুর-জিপিও, মিরপুর-মতিঝিল ও মোহাম্মদপুর-মতিঝিলসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে এই সেবার আওতায় আনার কথা রয়েছে। গাজীপুর-বিমানবন্দর রুটেও বাস চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুনবাজার থেকে মতিঝিলগামী বাস কোকাকোলা, নতুনবাজার, বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, কাকরাইল, পল্টন ও গুলিস্তান হয়ে মতিঝিলে যাবে। একইভাবে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ডেমরা ও আব্দুল্লাহপুর থেকে চলাচলকারী বাসগুলো রাজধানীর ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর সঙ্গে সংযোগ তৈরি করবে।
ঢাকার বাইরেও এই সেবার বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে। বগুড়ার শেরপুর-মাটিডালি এবং চট্টগ্রামের কালুরঘাট-পতেঙ্গা রুটেও বিশেষ বাস পরিচালনার কথা রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ‘পিংক বাস’ শুধু নারীদের নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগই তৈরি করবে না; পরিবহন খাতে নারীদের কর্মসংস্থান ও অংশগ্রহণও বাড়াবে। বিআরটিসির প্রচারিত বার্তায় নারী চালকের গাড়িতে নিরাপদ যাত্রা এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে এর আগে বিআরটিসির নারী বাস সার্ভিস নিয়ে যাত্রীসংকট ও নিয়মিত পরিচালনা না হওয়ার অভিযোগও উঠেছিল। বিভিন্ন সময়ে নারী যাত্রীরা নির্ধারিত রুটে বাস না পাওয়া এবং সেবাটি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকার অভিযোগ করেছেন।
ফলে নতুন করে চালু হতে যাওয়া ‘পিংক বাস’ কতটা নিয়মিত, নিরাপদ ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
সংশ্লিষ্টদের আশা, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত বাস নিশ্চিত করা গেলে রাজধানীর কর্মজীবী নারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি গণপরিবহনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
আরু|



