দেশে সড়ক দুর্ঘটনা থামছেই না। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সারাদেশে ৪২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৮০ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫৪২ জন।
বিআরটিএর বিভাগীয় কার্যালয়গুলোর মাধ্যমে সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়।
সরকারি সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, জুলাই মাসে দুর্ঘটনার পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
বিআরটিএর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ বিভাগে ১১৩টি দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে ২৩টি দুর্ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে।
দুর্ঘটনায় যানবাহনের ধরন বিবেচনায় মোটরসাইকেল ছিল প্রাণহানির অন্যতম বড় কারণ। বিআরটিএর হিসাবে জুলাইয়ে ১১৬টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৮৩ জন নিহত হয়েছেন।
তবে একই সময়ের সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাব ছিল আরও বেশি। তাদের প্রতিবেদনে জুলাইয়ে ৪৪৩টি দুর্ঘটনায় ৪১৮ জন নিহত ও ৮৫৬ জন আহতের কথা বলা হয়। সংস্থাটির হিসাবে ১৩১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১০৯ জন নিহত হয়েছেন।
দুই সংস্থার পরিসংখ্যানে পার্থক্য থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি এখনো বড় উদ্বেগের কারণ। বিশেষ করে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য হওয়ায় নিরাপদ চালনা, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং সড়ক ব্যবস্থাপনা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বেপরোয়া গতি, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, চালকদের অদক্ষতা, ট্রাফিক আইন না মানা এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ নানা বিষয় উঠে এসেছে।
অর্থাৎ, জুলাইয়ের দুর্ঘটনার হিসাব নিয়ে দুই ধরনের তথ্য থাকলেও সরকারি বিআরটিএর হিসাবে নিহত ৩৮০ জন, আর রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে নিহত ৪১৮ জন।
আরু|



