অর্থের অভাবে দেশের কোনো মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সবার জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি, যাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের মানুষকে বিদেশে যেতে না হয়।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের নবনির্মিত ৫০০ শয্যার ভবন উদ্বোধন শেষে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থের অভাবে কেউ যেন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। দেশে এমন একটি চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে জটিল রোগের চিকিৎসার জন্যও মানুষকে বিদেশমুখী হতে না হয়।
তিনি জানান, আগামী অক্টোবর মাসে দেশে আরও পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে। এর মাধ্যমে শিশুদের উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা আরও বিস্তৃত হবে।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের নবনির্মিত ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি। পরে মোনাজাতে অংশ নেন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন ৫০০ শয্যার ভবন চালু হওয়ায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে মোট শয্যাসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজারে। এর ফলে দেশের স্নায়ুরোগে আক্রান্ত বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, দক্ষিণ এশিয়ার আর কোনো দেশে এত বড় নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল নেই।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে ১০ তলা ভবনে ৩০০ শয্যা নিয়ে হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হয়। রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় পরবর্তীতে আরও ২০০ শয্যা বাড়ানো হয়। এবার নবনির্মিত ১৫ তলা ভবনের মাধ্যমে যুক্ত হলো আরও ৫০০ শয্যা। ফলে বর্তমানে হাসপাতালটির মোট শয্যাসংখ্যা ১ হাজারে উন্নীত হয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগের ফলে স্নায়ুরোগের চিকিৎসায় সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আরু|



