জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে সপরিবারে নিহত হন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান। দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর শোকাবহ অধ্যায় হিসেবে স্মরণ করা হয়।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল সেনাসদস্যের অভ্যুত্থানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যও নিহত হন। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের দীর্ঘ সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালির রাজনৈতিক অধিকার ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে সামনে নিয়ে আসেন।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করেন। পরে ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযান শুরু হলে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ভূমিকা নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা ও গবেষণা হয়েছে।
প্রতি বছর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও ১৯৭৫ সালের হত্যাকাণ্ডে নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ১৫ আগস্টের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। ফলে এ বছর দিবসটি ঘিরে কর্মসূচি ও আয়োজনের ধরনও আগের বছরের তুলনায় ভিন্ন।
১৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বেদনাবিধুর অধ্যায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর রাজনৈতিক জীবন, মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা এবং দেশের ইতিহাসে তাঁর অবদান নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে।
আরু|



