জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা আরও আধুনিক ও সহজ করতে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বর্তমানে ১৬ বছর বয়স থেকে ভোটার নিবন্ধনের জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হলেও, ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই শুরু করা যায় কি না, তা নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত ১২তম কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তবে নাগরিকের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সেই তথ্য ‘ডরম্যান্ট’ বা সুপ্ত অবস্থায় সংরক্ষিত থাকে। ১৮ বছর পূর্ণ হলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন।
ইসি এখন পর্যালোচনা করছে, তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি কিংবা আরও নিচে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভর্তি পর্যায় পর্যন্ত নামানো সম্ভব কি না। বিষয়টি নিয়ে সার্বিক মূল্যায়নের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ ছাড়া কমিশন এনআইডি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা আরও সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এখন থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন অনলাইনে করা যাবে এবং এর জন্য নির্ধারিত ফি দিতে হবে।
আইন অনুযায়ী প্রতি ১৫ বছর পর এনআইডি নবায়নের সময় আবেদনকারীকে একটি নির্ধারিত ফরমে পারিবারিক পরিচয় বা ‘ফ্যামিলি ট্রি’র তথ্য দিতে হবে। এতে তথ্য যাচাই ও হালনাগাদ আরও সহজ হবে বলে জানিয়েছে ইসি।
এছাড়া জন্মতারিখ সংশোধনের কিছু ক্ষমতা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে। জেএসসি, এসএসসি বা পিএসসির সনদের ভিত্তিতে যেসব তথ্য যাচাই সম্ভব, সেগুলোর সংশোধন স্থানীয় পর্যায় থেকেই করা যাবে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়াও সহজ করা হচ্ছে। বিদেশে বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার পর তা সঙ্গে সঙ্গে সিস্টেমে আপলোড হবে। পরে দেশে তদন্তে তথ্য সঠিক প্রমাণিত হলে কেন্দ্রীয়ভাবে দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হবে। এতে সময় ও জটিলতা দুটোই কমবে বলে আশা করছে নির্বাচন কমিশন।
আরু/


