বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, প্রতিশোধপরায়ণ বা প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আইন প্রয়োগ ও শাস্তির বিধান কার্যকর রেখে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
সোমবার (৬ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সভাপতিত্ব করেন। সভায় ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নিয়ে কূটনৈতিক মিশন ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও দীর্ঘদিন অন্যায়-অবিচারের শিকার হয়েছেন। কিন্তু তিনি প্রতিশোধপরায়ণ বা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। বরং দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন।
তিনি বলেন, কেউ অপরাধ করলে অপরাধের ধরন ও গুরুত্ব অনুযায়ী তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। শাস্তির বিধানের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশে প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
মো. নূরুল ইসলাম আরও বলেন, অতীতে বহু মানুষ স্বজন হারিয়েও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বাবা, ভাই কিংবা বোনের হত্যার বিচার পেতে অনেককে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আইন সংস্কার প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতা ও গঠনমূলক মতামতকে সরকার স্বাগত জানায়। আইন ও নীতিমালার প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা এবং জীবনমান উন্নয়নই সরকারের লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্ব ও অবদানেরও তিনি প্রশংসা করেন।
আরু/


