উৎসব সামনে রেখে বাড়তি মেদ ঝরিয়ে ঝরঝরে হতে চান অনেকেই। পাশাপাশি ত্বকে প্রাকৃতিক জেল্লা আনতেও থাকে নানা ধরনের চেষ্টা। তবে দ্রুত ওজন কমানোর আশায় না খেয়ে থাকা বা ক্রাশ ডায়েট করা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এতে ওজন কমার বদলে ত্বক শুষ্ক, কালচে ও নিস্তেজ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
পুষ্টিবিদদের মতে, খাবারের পরিমাণ একেবারে কমিয়ে না দিয়ে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর কিছু খাবার রাখা যেতে পারে। এসব খাবার ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার পাশাপাশি ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
শসা-লেবুর পানীয়
দিনের শুরুতে শসা ও লেবু দিয়ে তৈরি পানীয় রাখা যেতে পারে। শসায় পানির পরিমাণ বেশি এবং ক্যালরি তুলনামূলক কম। অন্যদিকে লেবুতে থাকা ভিটামিন সি শরীরে কোলাজেন তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ফলে শরীরের পানির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।
টক দই
সকালের খাবারে টক দই রাখা যেতে পারে। এতে থাকা প্রোবায়োটিক হজমের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। টক দইয়ের প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে। এতে অপ্রয়োজনীয় নাশতা বা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। টক দইয়ে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিডও ত্বকের যত্নে বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়।
গ্রিন টি
দিনে এক থেকে দুই কাপ গ্রিন টি পান করা যেতে পারে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের বিপাকক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অতিরিক্ত গ্রিন টি পান না করাই ভালো।
চিয়া সিড ও তিসির বীজ
ওজন নিয়ন্ত্রণের খাদ্যতালিকায় চিয়া সিড ও তিসির বীজও রাখা যেতে পারে। দুটিতেই রয়েছে খাদ্যআঁশ ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। পানিতে ভিজিয়ে খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকার অনুভূতি দিতে পারে। এগুলোতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতেও সহায়ক হতে পারে।
টমেটো ও গাজর
কম ক্যালরির খাবার হিসেবে টমেটো ও গাজর সালাদ কিংবা স্যুপে যোগ করা যায়। গাজরে থাকা বিটা-ক্যারোটিন এবং টমেটোর লাইকোপেন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এসব পুষ্টি উপাদান ত্বককে সুস্থ রাখতে এবং সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে সহায়তা করতে পারে।
কাঠবাদাম ও আখরোট
বিকেলের নাশতায় ভাজাপোড়া খাবারের পরিবর্তে এক মুঠো কাঠবাদাম বা আখরোট খাওয়া যেতে পারে। এসব বাদামে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে। কাঠবাদামে থাকা ভিটামিন ই ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।
শুধু খাবার নয়, জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ
তবে শুধু কয়েকটি খাবার খাদ্যতালিকায় যোগ করলেই দ্রুত ওজন কমবে_এমনটা নয়। ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য মোট ক্যালরি গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম ও সুষম খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া অতিরিক্ত চিনি, ময়দা ও ডুবো তেলে ভাজা খাবার কমানো এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
তাই উৎসবের আগে দ্রুত ওজন কমানোর জন্য না খেয়ে থাকা বা কঠোর ক্রাশ ডায়েটের পরিবর্তে পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই ভালো। এতে ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শরীর ও ত্বক_দুটিরই সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব।
আরু|



