স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে কাটানোর ফলে মানসিক চাপ, মনোযোগের ঘাটতি, ঘুমের সমস্যা এবং উদ্বেগ বাড়ছে—এমন উদ্বেগের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘ডিজিটাল ডিটক্স’।
ডিজিটাল ডিটক্স বলতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার সীমিত রাখা বা সম্পূর্ণ বিরতি নেওয়াকে বোঝায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন কিছু সময় প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকলে মানসিক প্রশান্তি বাড়ে, কাজে মনোযোগ ফেরে এবং ঘুমের মান উন্নত হতে পারে।
বিশেষ করে জেনারেশন জেড (Gen Z)-এর অনেকেই এখন সপ্তাহে একটি দিন বা প্রতিদিন নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টা ফোন ছাড়া সময় কাটানোর অভ্যাস গড়ে তুলছেন। অনেকেই এই সময় বই পড়া, পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, হাঁটাহাঁটি, ব্যায়াম কিংবা নতুন কোনো শখের চর্চায় মনোযোগ দিচ্ছেন।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ডিজিটাল ডিটক্স মানেই প্রযুক্তিকে সম্পূর্ণ বর্জন করা নয়। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন টাইম কমিয়ে আনা এবং বাস্তব জীবনের সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত সুস্থতার দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, ডিজিটাল ডিটক্সকে সাময়িক ট্রেন্ড হিসেবে না দেখে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করাই বেশি কার্যকর। ছোট ছোট পরিবর্তন—যেমন ঘুমানোর আগে ফোন ব্যবহার বন্ধ রাখা, খাবারের সময় স্ক্রিন এড়িয়ে চলা কিংবা নোটিফিকেশন সীমিত করা—দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে তাই অনেকেই মনে করছেন, অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইন জীবনেও ভারসাম্য ফিরিয়ে আনাই হতে পারে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের অন্যতম চাবিকাঠি।
ইতি/


