খুলনার দিঘলিয়ায় ঘরের দরজার সামনে পড়ে থাকা মুড়ির প্যাকেট কুড়িয়ে ঘরে নেওয়ার পর বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে মনিরুল ইসলাম নামে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে দগ্ধ হয়েছেন। বিস্ফোরণে ঘরের আসবাবপত্রেও আগুন ধরে যায়।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটী ইউনিয়নের কলেরপুকুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত মনিরুল ইসলাম সেনহাটী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের একটি ইউনিটের সভাপতি। তিনি একটি মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজরের নামাজ আদায় করে বাড়ি ফেরার পর ঘরের দরজার সামনে একটি পলিথিনের প্যাকেটে মুড়ি দেখতে পান মনিরুল ইসলাম। কেউ ভুল করে প্যাকেটটি রেখে গেছে মনে করে সেটি ঘরে নিয়ে যান। পরে প্যাকেটটি হাতে নিয়ে পরীক্ষা করার সময় ভেতরে থাকা হাতে তৈরি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে তার হাত ও পায়ের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়।
বিস্ফোরণে ঘরের আসবাবপত্রেও আগুন ধরে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে আহত মনিরুল ইসলামকে উদ্ধার করে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
এদিকে, আহত মনিরুলের সাংগঠনিক পরিচয় নিশ্চিত করেছেন দিঘলিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুশফিকুর রহমান।
তিনি দাবি করেন, মনিরুলের ছোট ভাই এম এম রকিব উদ্দিন সেনহাটী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াত মনোনীত সদস্য পদপ্রার্থী। তাকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা মুড়ির প্যাকেটে বোমা রেখে যেতে পারে বলে তাদের ধারণা। তবে ভুল করে প্যাকেটটি রকিব উদ্দিনের ঘরের পরিবর্তে মনিরুলের বাড়ির সামনে রেখে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন মুশফিকুর রহমান।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরূপ কুমার চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিস্ফোরণের কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরু|



