বয়স যে কখনোই শিক্ষার পথে বাধা হতে পারে না, তারই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর শেফালী বেগম। দীর্ঘ ৩৫ বছরের শিক্ষাবিরতি, সংসারের দায়িত্ব আর জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করেছেন তিনি। শুধু পাসই নয়, অর্জন করেছেন জিপিএ ৪.২১।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার কালিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা শেফালী বেগম ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় গোমনাতি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে অংশ নেন। তার এই সাফল্যে আনন্দিত পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসী। নতুন করে শিক্ষাজীবন শুরুর স্বপ্ন পূরণ করে এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার নাম তিনি।
জানা যায়, ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর পারিবারিক সংকটের কারণে মাঝপথেই বন্ধ হয়ে যায় শেফালীর পড়াশোনা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ভালো ফলাফল করলেও সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয় তাকে। বিয়ে, স্বামী-সন্তান এবং পারিবারিক নানা ব্যস্ততায় নিজের শিক্ষার স্বপ্ন দীর্ঘদিন আড়ালেই থেকে যায়।
তবে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কখনো হারাননি তিনি। একসময় ভাগ্নি ও নিজের সন্তানদের লেখাপড়া দেখে আবারও পড়াশোনা শুরুর ইচ্ছা জাগে তার। পরে স্বামী ও তিন সন্তানের উৎসাহ এবং সহযোগিতায় দীর্ঘ বিরতি ভেঙে আবারও বই-খাতা হাতে তুলে নেন শেফালী। অবশেষে সেই অধ্যবসায়ের ফল পান এইচএসসির ফলাফলে।
শেফালীর ছেলে আব্দুর রাজ শাফি বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়াংসাং বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনফরমেশন টেকনোলজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছেন। মেয়ে মাখসূরা খানম নাজমুন পড়ছেন রংপুর সরকারি কলেজে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে। সন্তানদের শিক্ষাজীবনে অনুপ্রেরণা জোগানোর পাশাপাশি এবার নিজের স্বপ্ন পূরণ করেও পরিবারের গর্ব হয়েছেন শেফালী।
কলেজের প্রভাষক আব্দুল মান্নান বলেন, শেফালী বেগমের এই সাফল্য সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। নিয়মিত অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ় মনোবল থাকলে জীবনের যেকোনো বয়সেই সাফল্য অর্জন সম্ভব।
নিজের অনুভূতি জানিয়ে শেফালী বেগম বলেন, ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। তবে সন্তান ও ভাগ্নিদের লেখাপড়া দেখে নিজের মধ্যেও নতুন করে পড়ার আগ্রহ তৈরি হয়। স্বামী ও সন্তানদের সহযোগিতায় আবারও পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। জিপিএ ৪.২১ পেয়ে এইচএসসি পাস করাকে জীবনের অন্যতম বড় স্বপ্ন পূরণ হিসেবে দেখছেন তিনি।
শেফালীর স্বামী মকছেদুল আলম বলেন, পরিবারের জন্য শেফালী নিজের অনেক স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছেন। দীর্ঘদিন পর নিজের সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারায় পরিবারের সবাই আনন্দিত ও গর্বিত। ভবিষ্যতেও তার পড়াশোনার পথে পাশে থাকার কথা জানান তিনি।
৫২ বছর বয়সে শেফালীর এই অর্জন যেন মনে করিয়ে দেয়, স্বপ্ন পূরণের জন্য বয়স কোনো শেষ সীমা নয়। ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম আর পরিবারের সহযোগিতা থাকলে জীবনের যেকোনো পর্যায় থেকেই নতুন করে শুরু করা সম্ভব।
আরু|



