দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবারও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে রাঙামাটির বিখ্যাত ঝুলন্ত সেতু। কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে সেতুটি পুরোপুরি দৃশ্যমান হওয়ার পর প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শেষ করে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে আবারও সেতুতে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন পর্যটকেরা।
রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মতো গত ১১ সেপ্টেম্বর কাপ্তাই হ্রদের পানিতে তলিয়ে যায় সেতুটি। ঝুঁকি এড়াতে ওই দিন থেকেই পর্যটকদের প্রবেশ ও চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ১২ অক্টোবর থেকে হ্রদের পানি কমতে শুরু করলে ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে সেতুটি। এরপর প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে পর্যটকদের জন্য আবার খুলে দেওয়া হয় এটি।
এর আগে, গত ২৯ আগস্ট টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে সেতুটি ডুবে যায়। পানি কমে ৪ সেপ্টেম্বর সেতুর অধিকাংশ অংশ দৃশ্যমান হলে মেরামত শেষে ৫ সেপ্টেম্বর তা পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানেই ১১ সেপ্টেম্বর আবারও পানির নিচে চলে যায় সেতুটি। ফলে দ্বিতীয় দফায় বন্ধ হয়ে যায় পর্যটকদের প্রবেশ।
১৯৮৬ সালে নির্মিত ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ এই ঝুলন্ত সেতু রাঙামাটির অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। কাপ্তাই হ্রদের ওপর দুই পাহাড়ের মাঝখানে নির্মিত সেতুটি দেখতে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা আসেন।
তবে বর্ষা মৌসুমে হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় বারবার সেতুটি পানির নিচে চলে যায়। এতে অনেক পর্যটক সেতু দেখতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যান। পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েন স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও।
এ পরিস্থিতিতে হ্রদের পানির উচ্চতা বিবেচনায় নিয়ে সেতুটি বারবার বন্ধ হওয়ার সমস্যা সমাধানে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে পর্যটকদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি রাঙামাটির পর্যটন কার্যক্রমও আরও গতিশীল হবে।
আরু|



