ক্যানসারে মারা যাওয়া মা সন্ধ্যা রাণী ধরের শেষকৃত্যে অংশ নিতে কারাবন্দি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন অনুমোদন করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তাঁর ভাই অঞ্জন কুমার ধরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন অনুমোদন করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
জেলা প্রশাসক বলেন, তাঁর ভাইয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে হাটহাজারীর শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে মারা যান সন্ধ্যা রাণী ধর। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর শরীরে ক্যানসার শনাক্ত হয়।
মায়ের অসুস্থতার খবর পাওয়ার পর তাঁকে একনজর দেখার জন্য চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিল তাঁর পরিবার। তবে মায়ের মৃত্যুর পর শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য সেই আবেদন অনুমোদন করা হয়।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পূর্বাশ্রমের নাম চন্দন কুমার ধর। তিনি ইসকনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও পুণ্ডরীক ধাম মন্দিরের অধ্যক্ষ ছিলেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত।
২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের সমাবেশের পর জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়। ওই মামলায় ২৫ নভেম্বর ঢাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাঁর জামিন নামঞ্জুরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলাতেও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আসামি করা হয়।
এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় বিভিন্ন সময়ে জামিন হলেও একাধিক মামলা চলমান থাকায় তিনি কারাগারে রয়েছেন।
আরু|



