বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী পেস ও স্পিন আক্রমণের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দারুণ ব্যাটিং প্রদর্শন করেছে বাংলাদেশ। জশ হ্যাজেলউড, নাথান লায়ন, মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্স_টেস্ট ক্রিকেটে প্রত্যেকের নামের পাশে রয়েছে ৩০০-এর বেশি উইকেট। এমন চার তারকা বোলারকে নিয়ে মাঠে নামা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই ৪২৬ রানের বড় সংগ্রহ গড়েছে টাইগাররা।
বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১৩৮ ওভার ব্যাট করে ৪২৬ রান সংগ্রহ করে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৭ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে কোনো সফরকারী দল এত দীর্ঘ সময় ব্যাট করতে পারেনি। একই সঙ্গে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ২২৮ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ, যা গত সাড়ে সাত বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের বিপক্ষে কোনো সফরকারী দলের সর্বোচ্চ লিড।
বাংলাদেশের এই দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পেছনে তানজিদ তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তদের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৫ উইকেটে ৩০৬ রান থেকে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ৩০৮ রানে পরিণত হওয়ার পর মুশফিকুর রহিমও সাজঘরে ফেরেন। তখন দলের ইনিংস সামলানোর বড় দায়িত্ব এসে পড়ে মিরাজের কাঁধে।
শেষ দিকের ব্যাটারদের সঙ্গে নিয়ে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এই অলরাউন্ডার। মধ্যাহ্ন বিরতির পর আউট হওয়ার আগে ১৫৪ বলে ৬৫ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলেন মিরাজ। তাঁর এই ইনিংস বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসেও নতুন রেকর্ড গড়েছে। সাত নম্বর কিংবা তার নিচে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস এখন মিরাজের দখলে।
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বল হাতেও বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র মিরাজ। অভিষেকের পর থেকে বাংলাদেশের হয়ে এখন পর্যন্ত ২১৯টি টেস্ট উইকেট নিয়েছেন তিনি, যা দেশের বোলারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ব্যাট হাতে করেছেন ২ হাজার ২৯৬ রান, যা বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তাকে পঞ্চম স্থানে রেখেছে।
আর অভিষেকের পর থেকে বিশ্ব ক্রিকেটে টেস্টে ২ হাজারের বেশি রান ও ২০০-এর বেশি উইকেট_এই অনন্য দ্বৈত কীর্তি গড়েছেন মিরাজ ছাড়াও কেবল ভারতের রবীন্দ্র জাদেজা।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে বাংলাদেশের এই ব্যাটিং পারফরম্যান্স তাই শুধু একটি ইনিংসের সাফল্য নয়; বরং টেস্ট ক্রিকেটে টাইগারদের সামর্থ্যেরও বড় এক বার্তা।
আরু|



