চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে গত বছরের তুলনায় এবার দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেক বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গঠিত টাস্কফোর্সের সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থতাও রয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেক হওয়াকে সরকারের অন্যতম সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতাবৃ দ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে ক্রাশ প্রোগ্রাম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং ফগার মেশিনে ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম চালানো হয়েছে। তবে ফগিংয়ে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে, যা টাস্কফোর্সের সভায়ও আলোচনা হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, বাড়ির ভেতর, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশের এলাকায় যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে।
বিশেষ করে পরিত্যক্ত টায়ার, ভাঙা কমোড, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব জায়গায় বৃষ্টির পানি জমে থাকতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেন তিনি। এসব স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে বলে সতর্ক করেন প্রতিমন্ত্রী।
এদিকে এবার দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে পিরোজপুরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি। শহরাঞ্চলের বাইরে পিরোজপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করে একটি বিশেষ কারণ পাওয়া গেছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পিরোজপুরে প্রচুর নারকেল ও সুপারি গাছ রয়েছে। এসব গাছ কাটার পর গোড়ার অংশে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। আর ওই জমে থাকা পানিতেই এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিয়ে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, জানুয়ারি থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
তবে গত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেক হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ও সাধারণ মানুষ_উভয় পক্ষকেই আরও সতর্ক ও সক্রিয় হতে হবে বলে তিনি জানান।
আরু|



