সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঢালিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে জানিয়েছে তার পরিবার ও নিসচা কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন তিনি। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইলিয়াস কাঞ্চন জীবিত ও চিকিৎসাধীন আছেন। তাকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া মৃত্যুর খবরের কোনো সত্যতা নেই।
পরিবারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যম ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা বলেছে, একশ্রেণির অসাধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী যাচাই-বাছাই ছাড়াই ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি করছে। প্রকৃতপক্ষে ইলিয়াস কাঞ্চন লন্ডনে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এদিকে প্রিয় নেতার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটিসহ দেশের প্রায় ১২০টি শাখার নেতাকর্মীরা যৌথভাবে এই অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
নিসচার নেতারা বলেন, দুর্ঘটনা, অসুস্থতা কিংবা মৃত্যুর মতো স্পর্শকাতর কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সত্যতা যাচাই না করে তথ্য প্রকাশ করা অত্যন্ত অনৈতিক। ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর মতো মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর খবর ছড়িয়ে পড়ায় তার পরিবার, ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ এবং মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে।
একই সঙ্গে গুজব ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে নিসচা।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে ব্রেন টিউমারে ভুগছেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত বছরের এপ্রিলে তিনি লন্ডনে যান। সেখানে আগস্টে তার মস্তিষ্কে জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমারটি পুরোপুরি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন, ইলিয়াস কাঞ্চন ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত। বর্তমানে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী লন্ডনে তার কেমোথেরাপি ও ওরাল থেরাপি চলছে।
তার পরিবার ও নিসচার পক্ষ থেকে সবাইকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো তথ্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস বা প্রচার না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আরু|



