মাত্র ৪৭ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ৭০০ টাকা। এই সামান্য বাজেটেই পাঁচ বছর ধরে একটি অ্যানিমেশন সিনেমা বানিয়েছেন চীনের এক মা ও ছেলে। শুরুতে ছবিটি নিয়ে ছিল তীব্র সমালোচনা ও উপহাস। কিন্তু সেই ট্রলই শেষ পর্যন্ত ছবিটির জন্য হয়ে উঠেছে বড় প্রচারণা।
চীনের আলোচনায় থাকা অ্যানিমেশন সিনেমাটির নাম ‘নিউ লাই’। ছবিটির নির্মাণে যুক্ত ছিলেন শিন ইউমেং ও তাঁর ছেলে সান লিফাং।
দাবি অনুযায়ী, মা-ছেলে দুজন মিলে প্রায় পাঁচ বছর ধরে ছবিটির চিত্রনাট্য, পরিচালনা, ভয়েস ওভার ও প্রযোজনার কাজ করেছেন।
গত ৫ আগস্ট চীনের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর শুরুটা অবশ্য মোটেও আশাব্যঞ্জক ছিল না। কোনো বড় ধরনের প্রচারণা ছিল না, এমনকি ছিল না ট্রেলারও। পরিবেশকের পক্ষ থেকেও ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। মুক্তির প্রথম ১০ দিনে টিকিট বিক্রি হয়েছিল ৩০০টিরও কম।
এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটির অ্যানিমেশন, গল্প ও স্পেশাল ইফেক্ট নিয়ে ব্যাপক হাসাহাসি শুরু হয়। নেটিজেনদের ট্রল ও মিম ধীরে ধীরে ছবিটির প্রতি মানুষের কৌতূহল বাড়িয়ে দেয়। আর সেখান থেকেই বদলে যায় পুরো চিত্র।
চীনা মুভি ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম মাও ইয়ানের তথ্য উদ্ধৃত করে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, ‘নিউ লাই’ ইতোমধ্যে ১৪.৯ মিলিয়ন ইউয়ান আয় করেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ মাত্র কয়েক হাজার টাকার নির্মাণ ব্যয়ে তৈরি সিনেমাটি এখন আয়ের দিক থেকে বড় বাজেটের চলচ্চিত্রগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
৮৬ মিনিটের এই অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রের গল্প একটি গরু ও একটি স্কাইলার্ক পাখির সম্পর্ককে কেন্দ্র করে তৈরি। ছবিটিতে নেই বড় বাজেটের প্রযুক্তি বা চোখধাঁধানো ভিজ্যুয়াল। বরং এর অস্বাভাবিক ও নিম্নমানের অ্যানিমেশনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
‘নিউ লাই’-এর গল্প তাই শুধু একটি সিনেমার সাফল্যের গল্প নয়; এটি দেখাচ্ছে, কখনো কখনো নেতিবাচক প্রচারণাও একটি অজানা সিনেমাকে দর্শকের সামনে পৌঁছে দিতে পারে। যে ছবিকে শুরুতে কেউ গুরুত্ব দিতে চায়নি, সেটিই এখন চীনা দর্শকদের মধ্যে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলোতে দাবি করা হচ্ছে।
আরু|



