স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চেনা চিত্রে আসছে বড় পরিবর্তন। ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনে আর দলীয় প্রতীকের ব্যবহার থাকছে না। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, আগামীতে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত নারী সদস্য ও সাধারণ সদস্য পদে ব্যবহারের জন্য নতুন প্রতীকও নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ১৭ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও সেটি বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশ করা হয়। ইসির ওয়েবসাইটেও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসংক্রান্ত সংশোধিত আইন ও বিধিমালা প্রকাশ করা হয়েছে।
চেয়ারম্যান পদে ২০ প্রতীক
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জন্য ২০টি প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে।
এগুলো হলো- কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবি ট্যাক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা ও হাঁস।
অর্থাৎ, আগের দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের পরিচিতি হবে নির্ধারিত এসব স্বতন্ত্র প্রতীকের মাধ্যমে।
সাধারণ সদস্যদের জন্য ১২ প্রতীক
সাধারণ সদস্য পদে প্রতীক রাখা হয়েছে ১২টি। এগুলো হলো- উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চ লাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব ও মোরগ।
সংরক্ষিত নারী সদস্যদের জন্য ১০ প্রতীক
সংরক্ষিত নারী সদস্য পদেও থাকছে আলাদা প্রতীক। নির্ধারিত ১০টি প্রতীক হলো- আলমারি, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ ও হেলিকপ্টার।
বেড়েছে জামানত
শুধু প্রতীকেই নয়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আর্থিক বিধানেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য প্রার্থীকে ৫ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে।
এ ছাড়া কোনো প্রার্থী প্রদত্ত মোট ভোটের ১৫ শতাংশের কম পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
দিতে হবে সম্পদের পূর্ণাঙ্গ হিসাব
নতুন বিধানে প্রার্থীদের সম্পদের হিসাব দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। প্রার্থীকে নিজের সম্পদের পাশাপাশি দেশে ও বিদেশে থাকা সম্পদ এবং নির্ভরশীলদের সম্পদের বিবরণ দিতে হবে।
এর ফলে প্রার্থীদের আর্থিক অবস্থান ও সম্পদের তথ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
নির্বাচনী ব্যয়ের সীমাও নির্ধারিত
নির্বাচনী প্রচারে ব্যয়ের সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা নির্বাচনী ব্যয় করতে পারবেন।
ফলে প্রার্থীদের প্রচার, নির্বাচনী কর্মকাণ্ড ও অর্থব্যয়ের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে।
স্থানীয় নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতীক, জামানত, সম্পদের বিবরণ ও নির্বাচনী ব্যয়ের পাশাপাশি আচরণবিধিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ইসি ২০২৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য পৃথক আচরণবিধিমালার গেজেট প্রকাশ করেছে।
সব মিলিয়ে নতুন বিধিমালায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দলীয় প্রতীকের বাইরে এনে প্রার্থীভিত্তিক প্রতীক, নির্ধারিত ব্যয়সীমা, জামানত এবং সম্পদের তথ্য প্রকাশের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে এই পরিবর্তনের বাস্তব প্রয়োগ শুরু হলে স্থানীয় নির্বাচনের প্রচার ও প্রার্থী পরিচিতির ধরনেও তা দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারে।
আরু|



