এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ শিক্ষার্থীর জন্য বড় সুখবর দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসব শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন থেকে যেন আরও একটি বছর নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যেই আগামী এক মাসের মধ্যে তাদের পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।
শনিবার সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ পরিকল্পনার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবার এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ফেল করেছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন। সব মিলিয়ে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন। তাদের এক মাসের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হবে। কোনোভাবেই এক মাসের বেশি সময় দেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট অকৃতকার্য হয়েছে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৪১৩ জন। অন্যদিকে, পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত বছরের ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
পাসের হার কমে যাওয়াকে সন্তোষজনক মনে করছেন না শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি, অভিভাবকদের ভূমিকা, শিক্ষকদের পাঠদান এবং শিক্ষার পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে সমস্যার কারণ চিহ্নিত করতে হবে।
বিষয়ভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে ইংরেজিতে। এ বিষয়ে ফেল করেছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন। আর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটিতে অকৃতকার্য হয়েছে ১৩ হাজার ৮৪৯ জন। ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
এদিকে, ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ করা হবে আগামী ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। আবেদন পাওয়ার পর খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, গতবার প্রায় ১৩ লাখ খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়েছিল। যাচাই শেষে ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করে এবং ৩ হাজার ৭৯ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পায়।
খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং মূল্যায়নে গুরুতর ভুলের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও কাজ করছে মন্ত্রণালয়। কোথাও কোথাও এমসিকিউ প্রশ্নপত্র পরিবর্তন এবং সংঘবদ্ধভাবে ফলাফল পরিবর্তনের অপচেষ্টার ঘটনাও সামনে এসেছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। এসব ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে এতে কোনো শিক্ষকের চাকরি যাবে না বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ নিয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ মিলিয়ে এবার প্রায় ১৩ লাখ ৪০ হাজার আসন রয়েছে। বিপরীতে পাস করেছে প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থী। ফলে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ থাকবে বলে জানান তিনি। তবে ভর্তি যোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিষয়।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকা, বাড়িতে পড়াশোনার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং মোবাইল আসক্তি ও মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।
সব মিলিয়ে, এবারের এসএসসি ফলাফলে হতাশার চিত্র থাকলেও এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক মাসের মধ্যে পরীক্ষার পরিকল্পনা নতুন করে আশার সুযোগ তৈরি করেছে। এখন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নজর পরীক্ষার নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।
আরু|



