বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর দ্বন্দ্ব ও ভূরাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকেও বহন করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেছেন, যেসব সংঘাত বা যুদ্ধের সঙ্গে এসব দেশের কোনো সম্পৃক্ততা নেই, তার পরও তাদের কয়েক গুণ বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর ‘দ্য ফিউচার অব এশিয়া’ শীর্ষক লিডারশিপ ফোরাম সেশনে বক্তব্য দেন তিনি।
আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো পরাশক্তির প্রতিযোগিতা এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাতের প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ের উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর এসে পড়ে। যুদ্ধের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা না থাকলেও এসব দেশের ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীলতা ও সংঘাত বাড়ার পরিবর্তে উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ বৈশ্বিক অস্থিরতার অর্থনৈতিক চাপ সবচেয়ে বেশি অনুভব করে সীমিত সম্পদের দেশগুলো।
দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত দুই দশকের পরিকল্পিত নেতৃত্বের ঘাটতির কারণে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশ ও রাজনীতি নিয়ে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এই দূরত্ব কাটিয়ে তরুণদের দেশ গঠন ও জাতীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
পার্থ বলেন, বড় কোনো জাতীয় সংকট দেখা দিলে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে পারে এটাই দেশের অন্যতম বড় শক্তি। দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জাতির মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষ্য, তরুণদের দীর্ঘদিন রাজনীতি ও দেশ গড়ার কর্মসূচি থেকে দূরে রাখার ফলে নেতৃত্বের একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছে। সেই শূন্যতা কাটিয়ে তরুণ প্রজন্মকে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
বৈশ্বিক সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হলে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোও নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্য আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে পারবে।
আরু|



